কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহাজামাল হক-এর বিরুদ্ধে এক নাবালিকা কন্যাকে নিয়ে রহস্যজনকভাবে পলাতক হওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং সমাজে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত রাতে শাহাজামাল হক যাত্রাপুর ইউনিয়নের শিবেরপাছী গ্রামের মোঃ গিয়াস উদ্দিনের নাবালিকা কন্যাকে নিয়ে গা-ঢাকা দেন। একটি ছাত্র সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নেতার এমন স্পর্শকাতর আচরণ স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের মাঝে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সমাজপতি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই ঘটনাকে নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং নারী ও শিশুর অধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, “এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজে ভয়াবহ বার্তা দেয় এবং একজন ছাত্রনেতার কাছ থেকে এমন অনৈতিক আচরণ প্রত্যাশিত নয়।”
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার এই পরিস্থিতিতে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের এমন কাণ্ড যাত্রাপুর ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। দলীয় নেতাকর্মীরা এটিকে “বিপর্যয়কর ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ধ্বংসকারী” হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
“এই ঘটনার কারণে ইউনিয়নে দলের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এই ঘটনাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নেতিবাচক প্রচারণা চালাবে। এর ফলে আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে মাঠপর্যায়ের কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।”
যাত্রাপুর ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা দ্রুততম সময়ে শাহাজামাল হকের অবিলম্বে পদত্যাগ ও বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। তারা সংগঠনের স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মান বজায় রাখার স্বার্থে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
“যাত্রাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের জন্য একজন নতুন, পরিচ্ছন্ন, দায়িত্বশীল এবং রাজনৈতিকভাবে পরিপক্ব নেতৃত্বকে সামনে আনা জরুরি। সেই নেতৃত্বই নির্বাচনের মাঠে কর্মীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক পরিস্থিতির উত্তাপ বিবেচনায়, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, দলীয় উচ্চপর্যায়কে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার রেশ ইউনিয়নের সামগ্রিক রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি