প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২

বেগম রোকেয়া: শত বছর পরেও প্রাসঙ্গিক

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশে নারীর কথা উঠলেই প্রথমে যে নামটি আসে, তিনি বেগম রোকেয়া। বহু বছর আগে তিনি যে আলো জ্বালিয়েছিলেন—শিক্ষা, স্বাধীনতা, মর্যাদা—সেই আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। সময় বদলেছে, সমাজ বদলেছে, কিন্তু নারীর অনেক সমস্যা এখনও রয়ে গেছে। তাই তাঁর ভাবনা আজও খুব সমসাময়িক।
তিনি ভাবতেন, একদিন নারী নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজেই নেবে। কিন্তু এখনো বহু নারী পড়াশোনা করতে পারে না, কাজ করতে পারে না, এমনকি বাইরে গেলে নানা প্রশ্নের মুখে পড়ে। পোশাক, চলাফেরা, মতামত—এসব নিয়ে সমাজের চাপ আগের মতোই আছে। তাই তাঁর কথা আজও ঠিক যেমন ছিল, তেমনই প্রাসঙ্গিক।
আজকের বড় সমস্যা—সাইবার হেনস্থা। নারী একটু স্বাধীনভাবে কথা বললেই অনলাইনে কটূক্তি, অপমান বা গুজব শুরু হয়। প্রকাশ্যে মত প্রকাশ করলেই সমাজের কিছু অংশ অস্থির হয়ে ওঠে। তিনি বহু আগেই বলেছিলেন, নারীর অগ্রগতি দেখলে পশ্চাৎপদ মানুষ ভয় পায়, তাই আক্রমণ করে।
তাঁর সময়েও তিনি এই বিরোধিতার শিকার হয়েছেন। নানা নামে ডাকা হয়েছিল, বলা হয়েছিল সমাজকে নষ্ট করছেন। আজও যারা নারীর সমান অধিকার বা স্বাধীনতার কথা বলেন, তারা একই রকম আক্রমণের মুখোমুখি হন। যেন নারীর স্বাধীনতাই কারও কারও কাছে বিপদ।
তার লেখাগুলো আমাদের শেখায়—শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান নয়, প্রশ্ন করার শক্তি। আজ মেয়েরা স্কুল-কলেজে বেশি পড়ছে ঠিকই, কিন্তু অনেক পরিবার এখনো শিক্ষাকে শুধু “ভালো বিয়ে”র সোপান হিসেবে দেখে। তাঁর মতে, শিক্ষা মানে নিজের পায়ে দাঁড়ানো এবং নিজের জীবন নিজের মতো করে গড়ার ক্ষমতা।
নারীর কাজের ক্ষেত্রেও সমস্যা একই। ঘরের কাজ এখনো “কাজ” হিসেবে দেখা হয় না। বাইরে কাজ করলেও ঘরের সব দায়িত্ব প্রায়ই নারীর উপরই থাকে। তিনি বলেছিলেন—ঘরের কাজকে অবমূল্যায়ন মানে নারীর শ্রমকে ছোট করে দেখা। এই ভাবনা আজও পুরোপুরি বাস্তবে বদলে যায়নি।
আজকের বাংলাদেশে নারী নির্যাতন, বাল্যবিয়ে, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, সাইবার হামলা—সবই প্রমাণ করে আমাদের সমাজ এখনও নিরাপদ নয়। তাঁর কথাই এখানে সত্য—যেখানে শক্তি নেই, সেখানে নির্যাতন বাড়ে। নারীর প্রতি সহিংসতা কমাতে হলে তাঁর দেখানো পথেই এগোতে হবে—শিক্ষা, সচেতনতা, সাহস এবং সমাজের মানসিকতার পরিবর্তন।
মূল স্বপ্ন ছিল সরল: নারীকে মানুষ হিসেবে দেখা। এই একটি কথাই সব বদলে দিতে পারে। কিন্তু সমাজ এখনো নারীর উপর নানা বোঝা চাপিয়ে রাখে—শুদ্ধতার বোঝা, ত্যাগের বোঝা, দায়িত্বের বোঝা। মানুষের মতো করে নারীর ইচ্ছা, স্বপ্ন, অধিকার—এগুলো এখনও পুরোপুরি স্বীকৃতি পায়নি।
আজ আমরা দেখছি—ভুল তথ্য, উস্কানি, ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা, উগ্রতা—এসব দিয়ে সমাজে বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে। অনেক কনটেন্ট নির্মাতা বিনা যাচাইয়ে নারীদের নিয়ে অপমানজনক কথা বলে, যা মানুষকে ভুল পথে নিয়ে যায়। তাঁর যুক্তিবাদী লেখা আজ এসব অন্ধকার কাটানোর সবচেয়ে দরকারি হাতিয়ার।
সব মিলিয়ে, এই ভাবনা কোনো পুরোনো গল্প নয়। তিনি আমাদের আজকের সময়ের কথাই যেন আগে থেকেই বুঝেছিলেন। যতদিন নারীর নিরাপত্তা, সম্মান, সমান অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত না হবে—ততদিন এই পথপ্রদর্শক আমাদের পাশে দরকার।
তিনি শুধু অতীত নন, বর্তমানও, ভবিষ্যতের পথও।
এই কারণেই তিনি আজও প্রাসঙ্গিক। খুবই প্রাসঙ্গিক।
শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। বেগম রোকেয়া।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার, উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম), নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন