সেই ১৯৮৫ সালের কথা। রিপন মেকানিকের পিতার স্বপ্ন ছিল আদরের সন্তান বড় হয়ে একজন শিক্ষিত একজন মানুষ হবেন। মানুষকে ইসলামের পথে আহবান করবেন। তাই পড়ালেখার জন্য ছেলেকে ভর্তি করে ছিলেন এলাকার এক স্কুলে। কিন্তু না-দারিদ্রতার কারণে পিতার সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। স্কুলের গন্ডি না পেরুতেই শুরু হয় জীবন-জীবিকার যুদ্ধ। সংসারে অভাব-অনটনের কারণে মাদ্রাসায় কিছুদিন পড়া অবস্থায় সাইকেল মেরামতের কাজে লেগে পড়তে হয় রিপনকে। মাদ্রাসায় ভর্তির আগে স্কুলে কয়দিন পড়াশোনা করে তারপর থেকে আর স্কুলে যাওয়া হয়নি।
নাম তার সকলের খুব পরিচিত মুখ রিপন শেখ। বয়স ৫৫ বছর। তিনি দিঘলিয়ার উপজেলার ৩নং ওয়ার্ডের মোঃ মোস্তফা শেখের ছেলে। এলাকার সবাই তাকে এখন ‘সাইকেল রিপন মেকার হিসেবে চিনেন। জীবন-জীবিকার তাগিদে যিনি দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে সাইকেল মেরামতের পেশা আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। দিঘলিয়ার মোড়ল মার্কেটের একটি ভাড়া করা টিনের ঘরে ও ভাড়া করা দোকানে ভ্যান, রিক্সা, বাইসাইকেল মেরামতের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে যাচ্ছে।
তাঁর সাথে কথা এ প্রতিবেদকের। তিনি জানান, তার জীবন যুদ্ধের গল্প। তিনি বলেন, “সাইকেল মেকার হওয়ার কথা ছিল না আমার। পড়া-লেখা শিখে পিতার লালিত স্বপ্ন পূরণ করতে চেয়ে ছিলাম। কিন্তু জীবন যুদ্ধে পরাজিত হয়ে আমি এখন রিপন সাইকেল মেকার ! অবশ্য এ জন্য আমার কোন দুঃখ নেই।” তিনি আরও বলেন, “আল্লাহ আমাকে অনেক ভালো রেখেছেন। এ বয়সেও শরীরে বড় ধরণের কোন অসুখ নাই। চোখে দেখতেও কোন সমস্যা হয় না। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত্র ১০ঃ০০ টা পর্যন্ত বাইসাইকেল ও ভ্যান গাড়ি মেরামত করে যা আয় হয় তা দিয়ে তার সংসার চলে যায়। তার বড় বৌয়ের ১ ছেলে ও ১ মেয়ে। বাকি বিয়ের বউ গুলো আসে আর চলে যায় এভাবে তার দিন চলে। একমাত্র মেয়েটিকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন ও ছেলেটাকেও বিয়ে করাইছে সে ঘরে একটি কন্যা সন্তান।
তিনি জানান, সে সময়কার নামকরা মেকার সাইকেল-ভ্যান মেরামতকারী তার উস্তাদ। তার কাছেই তিনি এ কাজ শেখেন। এরপর একটি ঘর ভাড়া করে নিজেই কাজ শুরু করে দেন। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ ৪০ বছর। এক সাথে কাজ শিখেছেন এমন কেউই আর দুনিয়াতে বেঁচে নেই। তিনিই এলাকার প্রবীণ রিপন সাইকেল মেকার ।

জাহিদ হোসেন