প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

যদি কিছু মনে না করেন

ইউ বি টিভি ডেস্ক

যাদের বয়স পঞ্চাশের কোঠা পার হয়েছে তাদের অনেকেই এই গুনি মানুষটিকে চিনেন। আবার অনেকের কাছেই মানুষটি হয়ত পরিচিত নন। মাথায় পরচুলা পরতেন। দেখতে তিনি সুদর্সন ছিলেন না মোটেও কিন্তু তার চাহনি ছিল আশ্চর্য রকমের মায়াকাড়া, তার থেকেও সুন্দর ছিলো তার কথা বলার ভঙ্গি আর অভিব্যক্তি।

ফজলে লোহানী ছিলেন একাধারে সাংবাদিক, লেখক, টিভি উপস্থাপক ও চলচ্চিত্র প্রযোজক। কিন্তু তার এই সকল পরিচয় ঢাকা পড়ে যায় “বিটিভির সেই বিখ্যাত ম্যাগাজিন “যদি কিছু মনে না করেন”-এর আড়ালে। এটি ছিলো বাংলাদেশের প্রথম ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান। এখানে উল্লেখ্য আজকের হানিফ সংকেত কিন্তু তারই আবিস্কার। হানিফ সংকেত সেই ম্যাগাজিনটির একজন কৌতুক অভিনেতা ছিলেন, সেই সাথে তিনি ফজলে লোহানির সহকারি হিসেবে কাজ করতেন। ফজলে লোহানি প্রয়াত হবার পরে হানিফ সংকেত বর্তমানের সবচেয়ে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি চালু করেন।

প্রতি পনের দিন পর পর বিনোদনমূলক নানা আয়োজনে ভরপুর ‘যদি কিছু মনে না করেন’ অনুষ্ঠান নিয়ে দর্শকদের সামনে আসতেন তিনি। আজকের দিনে টেলিভিশনের নানান চ্যানেলে শতশত রিপোর্টিং চোখে পড়ে কিন্তু বাংলাদেশ টেলিভিশন মিডিয়ার ইতিহাসে সত্যিকার অর্থে টিভি রিপোর্টিং চালু করেন ফজলে লোহানী। তার প্রতিটা অনুষ্ঠানের শেষ অংশে থাকতো একটি করে টিভি রিপোর্টিং। এবং এই টিভি রিপোর্টিং দেখার জন্যে বিপুল সংখ্যক দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়তেন টিভির সামনে। গভীর অভিব্যক্তি নিয়ে বানানো টিভি রিপোর্টিংগুলো দেখে মানুষ কখনও হাসতো, কখনও কাঁদতো, কখনও হয়ে উঠত বেদনায় ভারাক্রান্ত কিংবা ক্ষুব্ধ।

সে সময় দেখার সৌভাগ্য হয়নি তবে খুব ছোটতেই বিটিভিতে পুঃনপ্রচার একটা বা দুইটা অনুষ্ঠান দেখেছিলাম। সেই রিপোর্টিং গুলোতে কখনও থাকতো কোন গৃহহীন বৃদ্ধার অনাহারে অর্ধাহারে থাকার করুন কাহীনি। অথবা কোন এক মা-বাবা হারানো এক পথ শিশুর কষ্টের কথা।
কোন এক অনুষ্ঠানের শেষ অংশে তিনি ফিলিস্তিনের জনগনের উপর যে নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছিলো তার উপর একটা রির্পোট দেখান। । অনুষ্ঠানটির এক অংশে দেখানো হয় – প্রাসাদোপম একটা হোটেল ,যেটা নির্মান করা হয়েছিল ফিলিস্তিনিদের কবরের ওপর। অনুষ্ঠানটি দেখানোর সময় তিনি খানিকটা আবেগি হয়ে পড়েন। আসলে এই জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো দেখানোর সময় তিনি প্রায়ই অনেক আবেগি হয়ে পড়তেন। অনুষ্ঠানগুলো এতটায় স্পর্স করতো যে তিনি উপস্থাপনা করার সময় তার চোখে পানি তো আসতই সেই সাথে কাঁদতো অনুষ্ঠান দেখতে বসা মানুষগুলোও।

ফজলে লোহানী ১৯২৮ সালের ১২ মার্চ সিরাজগঞ্জ জেলার কাউলিয়া গ্রামে এক শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আবু লোহানী ছিলেন সেই সময়ের সুপরিচিত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক। মা ফাতেমা লোহানী ছিলেন কলকাতা করপোরেশন স্কুলের শিক্ষিকা। বড় ভাই ফতেহ লোহানী ছিলেন বিশিষ্ট অভিনেতা, আবৃত্তিকার, চিত্রপরিচালক, সাহিত্যিক, অনুবাদক ও বেতার ব্যক্তিত্ব।
১৯৮৫ সালের ৩০ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গুনি এই মানুষটি মৃত্যু বরণ করেন।

শেষ কথাঃ এদেশে ভালো মানুষ খুব একটা জন্মায় না এখন আর। মানুষের বীজগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। সেই বীজগুলো থেকে বেড়ে ওঠা চারাগুলোর সারা গায়ে কাঁটা লেগে আছে। সেই কাঁটাগুলো এখন প্রতিনিয়ত বিদ্ধ করে চলেছে আমাদের। ফজলে লোহানী তার অনুষ্ঠানে কিছু সংখ্যক মানুষের কষ্টের কথা, তাদের দুর্দশার কথা আমাদের সামনে তুলে ধরতেন যা দেখে দুঃখে আমাদের মন ভারাক্রান্ত হয়ে উঠতো। আজকে অন্যের দুর্দশা, কষ্ট দেখে আমরা আর কাঁদিনা। কারন আজকে আমরা নিজেরাই অসহায়।
অসহায় মানুষদের নিয়ে বানানো রিপোর্ট দেখা মানুষগুলো আজ নিজেরাই রিপোর্টে পরিণত হয়েছি। দেশের মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছি। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ক্ষমতালোভী মানুষগুলোর রেষারেষিতে চাকির নিচে পিস্ট হয়ে অসহায়ের মত নিদারুন কষ্টে অজানা আতংকে দিন পার করছি। অন্যের কষ্টে কষ্ট অনুভব করিনা। আমাদের অনুভুতিগুলো ভোঁতা হয়ে গেছে এখন।
বিবেকহীন মানুষগুলোর বিবেক জাগ্রত হোক।

সকলের মনে রাখা উচিত অনৈতিক কর্মের সকল ফসলই অনৈতিক।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার, উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, উপদেষ্টাঃ সাঈদা সুলতানা, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম-রাজশাহী), সহ-সম্পাদকঃ রুবিনা শেখ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন