যদি তুমি তোমার উপার্জনের সবটাই খাওয়া-দাওয়া, ঘোরাঘুরি আর আনন্দে ব্যয় করো — তবে তুমি মুক্ত নও।
তুমি প্রতিদিন বেঁচে থাকার লড়াইয়ে বন্দী, একটি চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছো।
মানুষ প্রায়ই বলে,
“মরে গেলে তো কিছুই সঙ্গে যাবে না।”
কিন্তু ভেবে দেখো —
এই কথাটা কি জীবন অপচয়ের অজুহাত?
নাকি জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর সুযোগ?
একটি পুরনো গল্প আছে —
গ্রীষ্মকালজুড়ে পিঁপড়ে ছোট ছোট দানা কুড়িয়ে বাসায় জমা করতো।
ঘাসফড়িং নাচতো, গান গাইতো, হাসতো আর বলতো,,,,
“তুমি এতো কষ্ট করো কেন? সূর্য তো ঝলমল করছে, জীবন তো দারুণ!”
পিঁপড়ে মৃদু হেসে কাজ চালিয়ে যেতো।
তারপর এলো শীত।
গাছের পাতা ঝরে পড়লো, মাটি জমে গেলো, গান থেমে গেলো।
ঘাসফড়িং ঠান্ডায় কাঁপতে লাগলো, পেট খালি, একা।
সে পিঁপড়ের দরজায় এসে কাঁদলো, সাহায্য চাইলো।
কিন্তু পিঁপড়ে দরজাটা বন্ধ করে দিলো —
নির্দয়তা থেকে নয়,
কারণ, প্রস্তুতির একটা মূল্য আছে।
আর কিছু শিক্ষা জীবন দেরিতে দেয়।
এটা শুধু এক পিঁপড়ে বা ঘাসফড়িংয়ের গল্প নয়।
এটা আমাদের গল্প।
আজ তুমি শক্তিশালী, উপার্জনক্ষম।
কিন্তু চিরকাল থাকবে তো?
তোমার সন্তানেরা কি পার্টির গল্প মনে রাখবে,
নাকি সেই ঘরটির কথা মনে রাখবে —
যেটা তুমি তাদের জন্য গড়ে গেলে?
তোমার ভবিষ্যতের ‘তুমি’ —
তোমার আজকের সিদ্ধান্তকে কি ধন্যবাদ দেবে,
নাকি আক্ষেপ করবে?
সূর্য থাকলে গান গাওয়া সহজ।
কিন্তু শীত তো একদিন এসেই যায়।
তাই,,,,
পিঁপড়েকে যারা হাস্যকর ভাবত, সেই ঘাসফড়িং হয়ে যেও না।
সেই পিঁপড়ে হও, যে মৃদু হেসে বেঁচে থাকতে পেরেছিলো।
কারণ,
ভালোবাসা মানে আজ কত জাঁকজমকে বাঁচলে তা নয় —
ভালোবাসা মানে,
কাল যাদের তুমি ভালোবাসো, তাদের কতটা নিরাপদে রাখতে পারলে — সেটাই।

এ যেন আমাদের জীবনের গল্প