প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

তাড়াশে ভোরের আলো ফুটতেই জমে ওঠে শ্রমিকের হাট

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ভোরের আলো ফোটার আগেই জীবিকার জন্য কাজ খুঁজতে আসা মানুষের আনাগোনায় মুখরিত হতে শুরু করে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিভিন্ন বাজারে রাস্তার পাশে শ্রমিকের হাট । প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত উপজেলার খালকুলা, মহিষলুটি, মান্নান নগরসহ এলাকায় এ হাট বসে। এখানে পণ্যের মতো দর-কষাকষি করে কেনাবেচা হয় মানুষের শ্রম।

ভোরের আলো ফুটতেই জমে ওঠে শ্রমিকের এ হাটটি। এ হাটে উপজেলর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসেন নানা বয়সের শ্রমজীবী মানুষ। শ্রমিক খুঁজতে আসা কৃষকরাও হাটে এসে পেয়ে যান তাদের কাজের জন্য শ্রমিক।

সরেজমিনে উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের খালকুলা বাজারে দেখা গেছে, সড়কের পাশে নানা বয়সের শ্রমজীবী মানুষ। তাদের হাতে ব্যাগ। কেউ কেউ আছেন খালি হাতেই। বাজারের বেশিরভাগ জায়গাজুড়ে শ্রমিকরা জটলা পাকিয়ে কাজের অপেক্ষা করছেন। হাটে ওঠা শ্রমিকরা কেউই এখানকার স্থানীয় বাসিন্দাও উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন তারা। কৃষক ও শ্রমিকদের মধ্যে চলে শ্রমের দরকষাকষি। উভয়ে দরদামে সন্তুষ্ট হলে শ্রমিক পেয়ে যাচ্ছেন কাজ, আর কৃষকরা পেয়ে যাচ্ছেন কাজের মানুষ। এভাবেই চলছে শ্রম বেচাকেনা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা এ বাজারেই আসেন শ্রমিক নিতে।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নওগাঁ, সোলাপাড়া, মাগুরা বিনোদ, সগুনা, কোহিত, ভাদাস, তাড়াশ, ঘরগ্রাম, দোবিলা, বাঁশবাড়িয়া, বানিয়াবো, মহিষলুটি, মঙ্গলবাড়িয়া, কুটিগাছা, উলিপুর, সাঁকুয়া দিঘী, হামকুড়িয়া, দক্ষিণ শ্যামপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে এসেছেন তারা।

পছন্দের কাজ না পেলে অনেকে এক হাট থেকে ছুটে যান অন্য হাটে, এক মালিক থেকে অন্য মালিকের কাজে। নিজেদের এলাকায় এ সময় কাজ না থাকায় একটু বাড়তি রোজগারের আশায় তারা এ হাটে এসেছেন। কাজের খোঁজে ভোর না হতেই প্রতিদিন এ হাটে জড়ো হতে শুরু করেন তারা।

সোলাপাড়া থেকে আসা শ্রমিক রতন আলী জানান, আমাদের এলাকায় কাজ কম। যে কাজ আছে তা দিয়ে কোন রকমের মতো করে সংসার চলছে। তাই এ এলাকায় কাজের সন্ধানে এসেছি। রসুন সময়টা কাজ করে কিছু টাকা জমিয়ে আবার বাড়ি ফিরে যাব।

আরেক শ্রমিক সোলেমান হোসেন জানান, রসুন তলার জন্য এ সময় কাজের সন্ধানে এ এলাকায় আসি। কাজ ফুরিয়ে গেলে নিজের এলাকায় ফিরে যাই। দরদামে বনাবনি হয় না তাই মাঝেমধ্যে কাজ পাই না। তবে আমাদের এলাকার তুলনায় এ এলাকায় কাজ বেশি, এজন্যই আমরা আমাদের এলাকার কাজ শেষে অনেকে মিলে এখানে কাজ করতে আসি।

কাছিকাটা বাজার থেকে শ্রমিক নিতে আসা কৃষক আলমগীর হোসেন জানান, আমাদের এলাকার স্থানীয় শ্রমিক এখন আর তেমন পাওয়া যায় না। দূরদূরান্ত থেকে আসা শ্রমিকদের ওপরেই আমাদের ভরসা। তাই রসুন ঘরে তোলার কাজের জন্য এ হাটে এসেছি শ্রমিক নেওয়ার জন্য। কিছু শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি, দরদামে মিলে গেলে তাদের নিয়ে জমিতে যাব।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আসাদুল ইসলাম জানান, এ হাটে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দিনমজুররা আসেন কাজের খোঁজে। শ্রমিক খোঁজা স্থানীয় কৃষকরাও সহজেই শ্রমিক পেয়ে যান।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার, উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম-রাজশাহী), সহ-সম্পাদকঃ রুবিনা শেখ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন