প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ চৈত্র ১৪৩৩

সিলেট ও মৌলভী বাজারে ২ সাংবাদিকের বিরোদ্ধে পৃথক মিথ্যা মামলা

ইসমাইল খান নিয়াজ

সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। এতে সাংবাদিক সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে ব্যাপক নিন্দা ও প্রতিবাদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গোলাপগঞ্জের কুখ্যাত ‘মাটি সম্রাট’ জাকিরের দাপট, সাংবাদিক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৩ মামলা সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১নং বাঘা ইউনিয়নে জাকির হোসেন নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস জমি দখল, পাহাড় ও টিলা কেটে পরিবেশ ধ্বংস এবং অবৈধভাবে খাস জমি ও কৃষি জমি কেটে মাটি ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের কাছে তিনি ভুমি খেকো ও ‘মাটি সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও তার কার্যক্রম বন্ধ হয়নি; বরং নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে আরও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে।
এই অনিয়ম ও পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন সাপ্তাহিক হলি সিলেট পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক, এটিএন বাংলা ইউকে সিলেট প্রতিনিধি ও “বাংলাদেশ প্রতিক্ষণ”-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এস.এম জহুরুল ইসলাম।
এর জেরে প্রতিহিংসাবশত তার বিরুদ্ধে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি অভিযোগ ও জাকিরের সহযোগী সমসুল ইসলাম কর্তৃক আদালতে মামলা ও পুলিশ সুপার বরাবরে পৃথক অভিযোগ সহ মোট তিনটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জহুরুল ইসলাম বলেন, “সত্য তুলে ধরায় আমাকে এবং আমার পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করতে মিথ্যা মামলার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। আমি সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম একাধারে সিলেট সিটি প্রেস ক্লাবের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও বর্তমানে সম্মানিত সদস্য এছাড়া সিলেট বিভাগীয় অনলাইন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং গোলাপগঞ্জ প্রেস ক্লাবের আহবায়ক কমিটির সাবেক সদস্য, এছাড়া বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা সিলেট জেলা কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করছেন।
এদিকে শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিক এহসান বিন মুজাহিরের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দৈনিক খোলা কাগজ-এর নিজস্ব প্রতিবেদক, সাংবাদিক ও শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মো. এহসানুল হক (এহসান বিন মুজাহির)-এর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের প্রায় ৬ মাস পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী আলতাফুর রহমান ওরফে নাজমুল হাসান। তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
এরপর থেকেই সাংবাদিককে প্রভাবিত করার চেষ্টা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার এবং সর্বশেষ মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
এহসান বলেন, “তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ করেছি। সত্য প্রকাশের কারণেই এখন হয়রানির শিকার হচ্ছি।”শ্রীমঙ্গলে প্রেসক্লাবের জরুরি সভা, প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা এ ঘটনায় ১২ এপ্রিল (রোববার) শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, এ ধরনের মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করবে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। একইসাথে আগামীকাল বেলা ১১টায় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সাংবাদিক সমাজের নিন্দা ও সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ দুই ঘটনায় সিলেট ও মৌলভীবাজারের সাংবাদিক সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষ এই ঘটনাকে “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি” এবং “গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হুমকি” হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম), নির্বাহী সম্পাদকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন