প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় বাদ পড়ল ৯০ লাখ মানুষ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক

ভারতের সেনাবাহিনীর টেকনিশিয়ান ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুহাম্মদ দাউদ আলী। কিছুদিন আগে জানতে পারলেন, যে দেশের জন্য কাজ করে গেছেন, সেই দেশের ভোটার তালিকায়ই নেই তাঁর নাম। পাসপোর্ট ও সার্ভিস রেকর্ডের মতো বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও শুধু তাঁরই নয়, তিন সন্তানের নামও মুছে ফেলা হয়েছে তালিকা থেকে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কেবল তাঁর স্ত্রীর নাম তালিকায় রয়েছে।

৬৫ বছর বয়সী দাউদ আলী ও তাঁর সন্তানেরাসহ পশ্চিমবঙ্গের ৯০ লাখ ভোটারের নাম ২০২৬ সালের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যার ফলে রাজ্যটির মোট ৭ কোটি ৬০ লাখ ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশই বাদ পড়ল। চলতি মাসের শেষ দিকেই এই রাজ্যে নতুন সরকার নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।

বাদ পড়া এই ৯০ লাখের মধ্যে ৬০ লাখের বেশি ভোটারের নাম ‘অনুপস্থিত’ বা ‘মৃত’ হিসেবে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে দাউদ আলীর পরিবারের মতো বাকি ২৭ লাখ ভোটারের ভাগ্য এখনো অনিশ্চিত। তাঁদের বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

এখন পর্যন্ত ভারতের ১৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গই একমাত্র রাজ্য, যেখানে এই প্রক্রিয়ার পর অতিরিক্ত একটি ‘বিশেষ বিচারিক প্রক্রিয়া’ যুক্ত করা হয়েছে।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভুয়া বা দ্বৈত নাম বাদ দিয়ে প্রকৃত ভোটারদের তালিকাভুক্ত করতেই এই সংশোধন প্রক্রিয়া। তবে গত বছর বিহার রাজ্যে প্রথমবার এই প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই এটি আইনি চ্যালেঞ্জ ও বিতর্কের মুখে পড়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে বিষয়টি চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তীব্র বিরোধে জড়িয়েছে।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, এই সংশোধনীর লক্ষ্য হলো একটি ‘নির্ভুল ভোটার তালিকা’ তৈরি করা, যাতে কোনো যোগ্য ভোটার বাদ না পড়েন এবং কোনো অযোগ্য ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত হতে না পারেন।

তবে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিজেপি নেতারা নির্বাচনী ভাষণে ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই শুদ্ধি অভিযানের লক্ষ্য হলো তথাকথিত ‘অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ শনাক্ত করা। তৃণমূলের দাবি, এই শব্দটি মূলত মুসলিমদের লক্ষ্য করে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে দেখা গেছে, বাদ পড়া তালিকায় অনেক হিন্দু ভোটারও রয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, সম্পাদক ও প্রকাশকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম), নির্বাহী সম্পাদকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন