২৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক এক মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হতে যাচ্ছে যশোর। এদিন দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সফরে জেলাটিতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে রূপালী চত্বর থেকে শুরু করে উলাশী পর্যন্ত সর্বত্র বইছে সাজ সাজ রব। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনের আনুষ্ঠানিক সূচি নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে যশোরের স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতের বড় দুটি প্রকল্পের সূচনা। তিনি বিমানবন্দর থেকে সরাসরি যাবেন উলাশী-যদুনাথপুর খাল এলাকায়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে শুরু হওয়া এই ঐতিহাসিক খালটি পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন তিনি। এরপর তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতে প্রতিষ্ঠিত যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার অত্যাধুনিক হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শেষে প্রধানমন্ত্রী যশোরের শিক্ষা ও সংস্কৃতির ধারক ‘যশোর ইনস্টিটিউট’ পরিদর্শন করবেন। বিকেলের পড়ন্ত রোদে যশোরবাসীর উদ্দেশে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। প্রতিমন্ত্রীর ভাষায়, “বিগত ১৭ বছর ধরে যশোরের উন্নয়নের যে চাকা থমকে গিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে তা নতুন গতিতে সচল হবে।”
সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সমন্বয়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. আশেক হাসান ও পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ের তদারকি করছেন।
এদিকে জ্বালানি সংকট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, বৈশ্বিক অস্থিরতা সত্ত্বেও দেশে সেচ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। কৃষকরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভা শেষে ওই দিনই প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ফেরার কথা রয়েছে।

মেহেদী হাসান রিপন