নোয়াখালীর সদর উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মো. সেলিম (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গৌরিপুর গ্রামের দুধির বাপের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সেলিম একই গ্রামের মো. শাহজাহানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।
নিহতের বড় ছেলে মো. শাকিল অভিযোগ করে জানান, তার ছোট ভাই অন্তর (১৫) একই গ্রামের জলকাটাগো বাড়ির সজল (১৭)-এর সঙ্গে চলাফেরা করত। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে সজল মুঠোফোনে অন্তরকে কল করে তাকে নাম ধরে ডাকতে নিষেধ করে। এ নিয়ে ফোনেই তাদের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র বিষয়ক তর্ক-বিতর্ক হয়।
তিনি আরও জানান, পরে সজল অন্তরকে তার চাচাতো ভাইয়ের দোকান ‘খলিল স্টোর’-এ যেতে বলে। তবে অন্তর বাড়ি থেকে আর বের হয়নি।
শাকিলের অভিযোগ, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সজল তার সহযোগী শাওন, ফাহাদ ও রিয়াদসহ কয়েকজনকে নিয়ে তাদের বাড়ির সামনে আসে। একপর্যায়ে তারা অন্তরকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।
এ সময় শাকিল তাদের ধাওয়া করলে হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। শোরগোল শুনে সেলিম পাশের একটি মুদি দোকান থেকে বের হয়ে বাড়ির দিকে আসছিলেন। তখন সজল ও তার সহযোগীরা তাকে বেধড়ক মারধর করে।
মারধরের একপর্যায়ে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই সময় ভিকটিম ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আকস্মিকভাবে তার মুখে একটি আঘাত লাগে এবং তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, মরদেহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী