প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২

আধুনিক ইউ. পি. চেয়ারম্যান

মোঃ আব্দুল কাদের সরকার

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায়, বিশেষত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে, শিক্ষিত ও প্রযুক্তি সচেতন ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের দাবি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত ও বাস্তবসম্মত।

প্রথমত, আধুনিক শাসনব্যবস্থা ক্রমেই ডিজিটাল ও তথ্য নির্ভর হয়ে উঠছে। বাংলাদেশে “ডিজিটাল বাংলাদেশ” উদ্যোগের আওতায় ইউনিয়ন পর্যায়েও ই-গভর্ন্যান্স, অনলাইন সেবা, জন্মনিবন্ধন, ভূমি সেবা, সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বিতরণসহ নানা কার্যক্রম অধিকাংশে প্রযুক্তি নির্ভর। একজন প্রযুক্তি-দক্ষ চেয়ারম্যান এসব কার্যক্রম দ্রুত, স্বচ্ছ ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারেন।

দ্বিতীয়ত, শিক্ষিত নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণে তুলনামূলকভাবে যুক্তিনির্ভর, নীতিনিষ্ঠ ও পরিকল্পনামূলক ভূমিকা রাখতে পারে। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, বাজেট পরিকল্পনা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, এবং সরকারি নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। যেমন, কোনো শিক্ষিত চেয়ারম্যান স্থানীয় সমস্যা বিশ্লেষণ করে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে সক্ষম হন, যা টেকসই উন্নয়নে সহায়ক।

তৃতীয়ত, প্রযুক্তি-সচেতন নেতৃত্ব জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ উন্নত করতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জনগণের অভিযোগ গ্রহণ ও সমাধান দ্রুত করা সম্ভব। এতে জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায় এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণও শক্তিশালী হয়।

চতুর্থত, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি যদি শিক্ষা ও গবেষণায় অগ্রসর হন, তাহলে তাঁরা এলাকার ভৌত অবকাঠামো ও জনগণের উন্নয়নের জন্য শুধু সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত তথাকথিত অর্থের উপরই নির্ভর করেন না। বরং, নিজ দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনুদানেরও ব্যবস্থাপনা করতে পারেন, যা ছোটখাটো এনজিওগুলো করে থাকে।

তবে এর কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা বা প্রযুক্তি জ্ঞান থাকলেই একজন ভালো চেয়ারম্যান হওয়া যায় না। স্থানীয় বাস্তবতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গ্রহণযোগ্যতা, শারিরীক ও মানসিক সুস্থতা, গুণগত নেতৃত্ব, সততা ও সচ্ছতা এবং নিরপেক্ষ জনসম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কম শিক্ষিত কিন্তু সৎ ও পক্ষপাত বিমূখ জনমুখী নেতা জনগণের আস্থা অর্জনে বেশি সফল হন।

সুতরাং, একথা বলা যায় যে, শিক্ষিত ও প্রযুক্তি-দক্ষ ব্যক্তিদের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আসা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত এবং সময়ের দাবি। তবে এটি একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত নয়। বরং শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রযুক্তি দক্ষতা, নৈতিকতা, গুণগত নেতৃত্ব এবং নিরপেক্ষ জনসম্পৃক্ততার সমন্বয়ই একজন আদর্শ চেয়ারম্যান তৈরিতে সবচেয়ে কার্যকর।

অতএব, নীতিগতভাবে শিক্ষিত ও প্রযুক্তি-সক্ষম নেতৃত্বকে যেমন উৎসাহিত করা উচিত, তেমনি সততা ও জনকল্যাণমূলক মানসিকতাকেও গুরুত্ব দেয়া জরুরি।

মোঃ আব্দুল কাদের সরকার
২ নং বারুহাস ইউনিয়ন

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম), নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন