খুলনা দিঘলিয়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের তরুণ উদ্যোক্তা উজ্জ্বল দাস—যিনি একসময় স্থানীয় ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করতেন—এখন স্মার্ট কৃষিতে সফলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে অবসর সময়টুকু কাজে লাগিয়ে নিজস্ব সবজির ক্ষেতে সময় দিতেন উজ্জ্বল। প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির প্রতি আগ্রহ থেকেই একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বঙ্গচাষি’র বিভিন্ন চাষাবাদ পদ্ধতি দেখে অনুপ্রাণিত হন তিনি। পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে কৃষিকাজ শুরু করেন।
শুরুর পথটা সহজ ছিল না। পরিবার ও এলাকার অনেকেই প্রথমদিকে তার এই নতুন উদ্যোগকে তেমন গুরুত্ব দেননি, বরং নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে। তবে দৃঢ় মনোবল আর পরিশ্রমের জোরে সব বাধা অতিক্রম করেন উজ্জ্বল।
প্রথমবার মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষ করেই চমক দেখান তিনি। ভালো ফলন ও বাজারমূল্য পেয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। এরপর ধীরে ধীরে নিজের চাষাবাদের পরিধি বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে তিনি এক বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে ‘সাথী প্লাস’ জাতের শসা চাষ করছেন এবং ৮ শতক জমিতে টমেটো চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছেন।
মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে উজ্জ্বল দাস এখন একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার ক্ষেত এখন স্থানীয় কৃষকদের জন্য এক ধরনের শেখার জায়গা হয়ে উঠেছে।
উজ্জ্বল দাস জানান, “আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে কম খরচে বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব। শুরুতে অনেকেই নিরুৎসাহিত করেছিল, কিন্তু এখন তারাই এসে পরামর্শ নিচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “যুব সমাজ চাইলে কৃষিকে পেশা হিসেবে নিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে। আমি চাই আমার মতো আরও অনেক তরুণ স্মার্ট কৃষির মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য বদলাক।”
বর্তমানে তিনি শুধু নিজের চাষাবাদেই সীমাবদ্ধ নেই। আশপাশের গ্রামের আগ্রহী কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে এলাকায় স্মার্ট কৃষির প্রতি আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয়দের মতে, উজ্জ্বল দাসের এই উদ্যোগ শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পুরো এলাকার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

জাহিদ হোসেন, দিঘলিয়া প্রতিনিধি 