প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

ময়মনসিংহে অবৈধ মদ বিক্রি নিয়ে তোলপাড়

মামুনুর রশীদ মামুন

ময়মনসিংহ মহানগরীতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত দেশি ও বিদেশি মদের দোকান মাত্র দুইটি হলেও অবৈধভাবে মদ বিক্রির বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৪০ থেকে ৪২ জন ব্যক্তি প্রকাশ্যে বা আড়ালে অবৈধভাবে দেশি ও বিদেশি মদ বিক্রি করে আসছে। ফলে আইন-শৃঙ্খলা,জননিরাপত্তা এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,ময়মনসিংহ নগরীর নাসিরাবাদ এলাকায় একটি দেশি মদের লাইসেন্স এবং একটি বিলাতি (বিদেশি) মদের লাইসেন্স থাকলেও সেই সীমাবদ্ধতার বাইরে নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, চায়ের দোকান, মুদি দোকান ও গোপন আড্ডাকেন্দ্রকে ব্যবহার করে অবাধে মদ বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই অবৈধ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি,একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি নিয়মিতভাবে এসব অবৈধ দোকান থেকে চাঁদা আদায় করে থাকে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি দোকান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ টাকা করে চাঁদা তোলা হয়, যা মাস শেষে বড় অঙ্কের অর্থে পরিণত হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তা বা প্রভাবশালী মহলের নামে “মাসোয়ারা” হিসেবে আদায় করা হয়—যার কারণে অবৈধ ব্যবসা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ,নগরীর কয়েকটি এলাকায় সন্ধ্যার পর প্রকাশ্যেই মদ বিক্রি ও সেবনের ঘটনা ঘটছে। এর ফলে তরুণ সমাজের মধ্যে মাদকাসক্তি বাড়ছে এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে কিছু এলাকায় মদের আড্ডাকে কেন্দ্র করে মারামারি,ছিনতাই,চুরি ও সামাজিক অস্থিরতার ঘটনা ঘটছে বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা। সচেতন মহলের মতে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি না থাকলে এই অবৈধ ব্যবসা আরও বিস্তৃত হতে পারে। তাদের দাবি,নগরীতে বৈধ লাইসেন্সের বাইরে কীভাবে এত বড় আকারে মদের অবৈধ বাজার গড়ে উঠল,তা খতিয়ে দেখতে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা দ্রুত প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ ও কঠোর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন,“অবৈধ মদ বিক্রির এই নেটওয়ার্ক ভেঙে না দিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।”
সচেতন মহল মনে করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অবৈধ মদ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, সিন্ডিকেট এবং সম্ভাব্য প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় নগরীর সামাজিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার, উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম-রাজশাহী), সহ-সম্পাদকঃ রুবিনা শেখ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন