প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

ফাজায়েলে আমলের লেখক শায়খুল হাদিস জাকারিয়া কান্ধলভি

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক

উপমহাদেশের প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ, আধ্যাত্মিক সাধক এবং তাবলিগ জামাতের অন্যতম প্রাণপুরুষ শায়খুল হাদিস মাওলানা জাকারিয়া কান্ধলভি (রহ.)। ১৮৯৮ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের উত্তর প্রদেশের কান্ধালা গ্রামে এক ঐতিহ্যবাহী ইলমি পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মাওলানা ইয়াহইয়া কান্ধলভি ছিলেন মাওলানা রশিদ আহমাদ গাঙ্গুহি (রহ.)-এর সুযোগ্য ছাত্র।

তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা হজরতজি ইলিয়াস কান্ধলভির পরিচয় ও জীবনীতাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা হজরতজি ইলিয়াস কান্ধলভির পরিচয় ও জীবনী
শৈশব ও শিক্ষাজীবন
শায়খুল হাদিস (রহ.)-এর পরিবার ছিল ইলম ও আমলের এক অনন্য খনি। এমনকি পরিবারের নারীরাও কোরআন তিলাওয়াত ও হাদিসের কিতাব পাঠে পারদর্শী ছিলেন। তিনি তাঁর চাচা এবং তাবলিগ জামাতের প্রবর্তক মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভি (রহ.)-এর কাছে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে শায়খ খলিল আহমাদ সাহারানপুরি (রহ.)-এর সান্নিধ্যে ইলমে হাদিসের সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত হন।

হাদিস শিক্ষার বিশেষ নিয়ম: দরসে হাদিসের সময় তিনি দুটি বিষয় কঠোরভাবে মেনে চলতেন:

১. অজু ছাড়া কোনো হাদিস পাঠ করতেন না।
২. প্রতিটি হাদিস উস্তাদের সামনে পড়ে শোনাতেন।

মাজাহির উলুম ও দীর্ঘ ৬০ বছরের অধ্যাপনা
ভারতের বিখ্যাত ইসলামি বিদ্যাপীঠ জামিয়া মাজাহির উলুম সাহারানপুর থেকে তাঁর শিক্ষকতা জীবনের শুরু। মাত্র আট বছরের মাথায় তিনি বুখারি শরিফের পাঠদান শুরু করেন। তাঁর পাঠদানের সুখ্যাতি ভারত ছাড়িয়ে মক্কা-মদিনা ও ইউরোপ-আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি টানা ৬০ বছর মাজাহেরে উলুমে হাদিসের পাঠদান করেছেন এবং আশ্চর্যজনকভাবে এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কোনো বেতন গ্রহণ করেননি।

আধ্যাত্মিক সাধনা ও খিলাফত লাভ
মাওলানা খলিল আহমাদ সাহারানপুরি (রহ.)-এর কাছে দীর্ঘ ১২ বছর আধ্যাত্মিক সাধনা বা সুলুক সম্পন্ন করেন। ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে (১৩৪৫ হিজরি) শায়খ সাহারানপুরি নিজ মাথার পাগড়ি খুলে জাকারিয়া কান্ধলভি (রহ.)-এর মাথায় বেঁধে দেন এবং তাঁকে বাইয়াত করানোর অনুমতি (খিলাফত) প্রদান করেন। তাঁর হাতে গড়া ছাত্র ও মুরিদদের এক বিশাল কাফেলা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ইসলামের আলো ছড়াচ্ছেন।

কালজয়ী রচনাবলি: ফাজায়েলে আমল ও অন্যান্য
শায়খুল হাদিস (রহ.) কেবল একজন শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক ক্ষুরধার লেখক। তাঁর রচিত ছোট-বড় কিতাবের সংখ্যা প্রায় ৮৪ টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

বজলুল মাজহুদ: আবু দাউদ শরিফের বিশ্ববিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
ফাজায়েলে আমল: যা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি মসজিদে পঠিত হয়।
আল কাওকাবুদ্দুরি: বুখারি শরিফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
খলিল আহমাদ সাহারানপুরি: জীবন, কর্ম ও গবেষণাখলিল আহমাদ সাহারানপুরি: জীবন, কর্ম ও গবেষণা
তাবলিগ জামাতের রুহানি মুরুব্বি
তাবলিগ জামাতের প্রসারে মাওলানা জাকারিয়া কান্ধলভি (রহ.)-এর অবদান অবিস্মরণীয়। মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) প্রতিটি জটিল বিষয়ে তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করতেন। তিনি মাদ্রাসার ছাত্র ও ওলামায়ে কেরামকে দাওয়াতি কাজে যুক্ত করতে নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন।

সোনার মদিনায় শেষ বিদায়
১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে সোমবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে মদিনা মুনাওয়ারায় এই মহান মনীষী ইন্তেকাল করেন। মদিনার জান্নাতুল বাকিতে তাঁকে দাফন করা হয়।

প্রতিষ্ঠাতা, ক্যাপশন এবং ভিডিও নিউজ এডিটরঃ মো: রাজিবুল করিম রোমিও, এম, এস, এস (সমাজ কর্ম-রাজশাহী), প্রধান উপদেষ্টাঃ মো: সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মো: মাহিদুল হাসান সরকার, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ মো: আ: হান্নান মিলন, সহকারী সম্পাদকঃ রুবিনা শেখ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: আব্দুল আজিজ, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ ফারুক হোসাইন, বার্তা সম্পাদকঃ মো: মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন