প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

ক্রাইম রিপোর্টার

সম্পাদকীয়

এক যুগ আগেও একজন দক্ষ ক্রাইম রিপোর্টার খুঁজে পাওয়া সহজ ছিল না। তাঁদের নাম শুনলেই বিভিন্ন সেক্টরের দুর্নীতিবাজরা সতর্ক হয়ে যেত। কারণ তাঁরা নীরবে, ছদ্মবেশে, তথ্যনির্ভর অনুসন্ধানের মাধ্যমে কাজ করতেন। দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বই ছিল তাঁদের পরিচয়।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চিত্র পাল্টেছে। এখন পথে-ঘাটে, গ্রামগঞ্জে অসংখ্য মানুষ নিজেদের ‘ক্রাইম রিপোর্টার’ পরিচয়ে হাজির হচ্ছেন। কেউ বিশেষ পোশাক পরে, কেউ লাল-কালো জ্যাকেটে বড় করে ‘ক্রাইম রিপোর্টার’ লিখে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন। অনেকেই হাতে মাইক নিয়ে প্রচারণামূলক ভঙ্গিতে তথাকথিত “ক্রাইম রিপোর্ট” সংগ্রহ করতে যান। অথচ প্রকৃত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কখনোই ঢাকঢোল পিটিয়ে হয় না; এটি হয় নীরবে, গভীর পর্যবেক্ষণ ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো—অনেকেই ক্রাইম রিপোর্টিংয়ের মৌলিক ধারণা না জেনেই এ পরিচয় ব্যবহার করছেন। ক্রাইম রিপোর্টারের কাজ ওয়ারেন্টের আসামি গ্রেফতার করা নয়, মাদক ব্যবসায়ী ধরিয়ে দেওয়া নয়, গাড়ির কাগজপত্র যাচাই করা বা ইটভাটার লাইসেন্স পরীক্ষা করাও নয়। এগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। একজন সাংবাদিকের কাজ হলো তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং জনস্বার্থে সত্য তুলে ধরা।
অপেশাদার ও দলবদ্ধভাবে পরিচয় ব্যবহারকারীদের কারণে পেশাদার সংবাদকর্মীরা অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। জনগণও বিভ্রান্ত হচ্ছেন—কে প্রকৃত সাংবাদিক, আর কে নয়। এতে করে সম্মানজনক এই পেশার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং ঝুঁকিও বাড়ছে।
প্রকৃত ক্রাইম রিপোর্টাররা সাধারণত প্রচারের আলোয় থাকেন না; তাঁরা থাকেন অনুসন্ধানের গভীরে। তাঁদের কাজ কথা বলে, পোশাক নয়। তাই সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে কেউ যেন পেশাকে কলুষিত করতে না পারে—এ বিষয়ে সচেতনতা জরুরি। পেশাদার সাংবাদিকতা রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ ও দায়িত্ববোধ।

প্রতিষ্ঠাতা, ক্যাপশন নিউজ এবং ভিডিও এডিটরঃ মো: রাজিবুল করিম রোমিও, এম, এস, এস (সমাজ কর্ম-রাজশাহী), প্রধান উপদেষ্টাঃ মো: সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মো: মাহিদুল হাসান সরকার, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ মো: আ: হান্নান মিলন, সহকারী সম্পাদকঃ রুবিনা শেখ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: আব্দুল আজিজ, বার্তা সম্পাদকঃ মো: মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন