রমাদানে অনেকেই রোজা রাখি, রোজা রাখার জন্য দৃঢ়তা প্রকাশ করি। কিন্তু নামাজের সময়…?
নামাজের সময় এই দৃঢ়তা কি থাকে?
অনেকেই তো শুধু রোজা রাখেন এবং ইফতার করেন, নামাজ পড়েন না। অন্যান্য আমল তো সেখানে প্রশ্নই আসে না।
আবার তারাবিহ্ এর নামাজ পড়া হয়, কিন্তু কুরআনের সাথে সম্পর্ক দুর্বল। তারাবিহ্ কত রাকাত পড়া হয়, এই নিয়ে হাজারো মতামত, দ্বন্দ্ব।
তাহলে প্রশ্ন আসে- রমাদান কি শুধু রোজা রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ?
উত্তর হলো- না। রমাদান শুধু তারাবির নামাজ আর রোজা রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
আল্লাহ তা’আলা বলেন,” হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” -সূরা আল-বাক্বারাহ:১৮৩)
রমাদান হলো রহমত-মাগফিরাত-নাযাতসহ বহুবিধ কল্যাণের মাস। এই মাস আত্মশুদ্ধির, আত্মসংযমের, তাকওয়া অর্জনের মাস। তাহলে কেন আমরা এই মাসকে শুধু রোজা রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ করবো? কেন আমরা এই মহিমান্বিত মাসকে নিজের আমল দিয়ে, নিজেকে সংযমের মাধ্যমে নিজের আমলনামা ভারী করবো না?
আর মাত্র কয়েকদিন, এরপরেই শুরু হবে রমাদান। তাই এখনি কিছু প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। আসুন জেনে নেই..
▶️রমাদান প্রাপ্তির দুআ:
হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
যখন তোমরা (রমজানের) চাঁদ দেখবে, তখন থেকে রোজা রাখবে, আর যখন (শাওয়ালের) চাঁদ দেখবে, তখন থেকে রোজা বন্ধ করবে। আকাশ যদি মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে ত্রিশ দিন রোজা রাখবে।-সহিহ বুখারী, হাদিসঃ ১৯০৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০৮০ (১৭-১৮)
▶️রমাদানের ফজিলত সম্পর্কে সচেতন হওয়া:
কুরআন ও সুন্নাহ তে রমাদানের যেসব ফজিলত ও মর্যাদার কথা বলা হয়েছে, সেগুলো এখন থেকে বেশি বেশি করে আমল করতে হবে, শুনতে হবে, অন্যদের জানাতে হবে, চর্চা করতে হবে; প্রয়োজনে ঘরে লিখে রাখতে হবে, যাতে বারংবার দেখে উৎসাহিত হতে পারি। তাহলে রমাদানের মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন হতে পারবো, রমাদানে আমল করার গুরুত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে বদ্ধপরিকর হতে হবে।
▶️তাওবা এবং ইস্তিগফার করা:
যে ব্যক্তি আল্লাহর কাঠগড়ায় আসামি, যার নামে আগে থেকে আল্লাহর আদালতে মামলা রয়েছে, তার জন্য নতুনভাবে নেক আমলের তাওফিক পাওয়া একটু কঠিন। এই জন্য আগের অপরাধের জন্য তাওবা করে, রমাদানের আগে নতুনভাবে জীবন গড়ার সংকল্প করতে হবে। পেছনের সমস্ত গুনাহর জন্য আল্লাহর কাছে মাফ চাইতে হবে।
▶️হিংসা ও শিরক থেকে মুক্ত হওয়া:
আল্লাহ তাআলার সাধারণ ক্ষমা লাভের জন্য হিংসা এবং শিরক থেকে মুক্ত হওয়া আবশ্যক। তাই, নিজেদেরকে রমাদান আসার পূর্বেই হিংসা এবং শিরক থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করতে হবে।
▶️রমাদানের প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল জেনে নেওয়া:
রমাদান এবং সিয়াম সংক্রান্ত মাসআলা বইপুস্তক পড়ে, বিজ্ঞ আলেমদের কাছ থেকে শুনে শিখে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে; জেনে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
▶ তাকওয়ার সাথে নামাজ, রোজা পালন করা: রোজা যেমন দৃঢ়তার সাথে রাখা হয়, তেমনি নামাজকেও প্রাধান্য দেওয়া। শুধু রোজা রাখলেই হবে, নামাজ পড়তে হবে না- এই মনোভাব পোষণ না করা।
পরিশেষে, এখন থেকেই প্রস্তুতি নিলে, এই মাসের সর্বোচ্চ ফায়দা অর্জন করা সম্ভব। আল্লাহ আমাদের সবাইকে পবিত্র রমাদান পাওয়ার ও তার হক আদায় করার তাওফিক দান করুন।
↪️রমাদান মাসের প্রস্তুতি সম্পর্কে পরিচিতদের অবগত না করে, দ্বিগুণ সাওয়াবের ভাগীদার হওয়া থেকে কি বঞ্চিত হবেন? নাকি সকলকে শেয়ার/ট্যাগ/মেনশন করে জানিয়ে দিয়ে দ্বিগুণ সাওয়াবের ভাগীদার হতে চান?

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক 