প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

বিবি আছিয়ার অমর ঈমান

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক

মিশরের রাজপ্রাসাদ ছিল তখনকার বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল স্থান। হাজার হাজার দাস-দাসী আর অগাধ ঐশ্বর্যের মালিক ছিলেন সম্রাজ্ঞী আছিয়া। কিন্তু এই সব কিছুর আড়ালে তাঁর হৃদয়ে লুকিয়ে ছিল এক পবিত্র তৃষ্ণা, যা দুনিয়ার কোনো ভোগবিলাস মেটাতে পারছিল না।
১. নীল নদের সেই উপহার
একদিন প্রাসাদের ঘাটে একটি ছোট সিন্দুক ভেসে এল। সিন্দুকটি খুলতেই বিবি আছিয়া দেখলেন এক ফুটফুটে শিশু, যার চেহারায় লেগে আছে জান্নাতি নূর। ফেরাউনের সৈন্যরা শিশুটিকে হত্যা করতে চাইলেও আছিয়ার হৃদয় কান্নায় ফেটে পড়ল। তিনি ফেরাউনকে উদ্দেশ্য করে বললেন—
“এই শিশু আমার ও তোমার নয়নমণি। একে হত্যা করো না, হয়তো সে আমাদের উপকারে আসবে অথবা আমরা তাকে পুত্র করে নেব।” সেদিন আছিয়াই হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন শিশু মুসা (আ.)-এর জন্য আল্লাহর পাঠানো এক ঢাল।
২. গোপন ঈমান ও ফেরাউনের ক্রোধ
হযরত মুসা (আ.) যখন বড় হলেন এবং নবুয়ত নিয়ে এক আল্লাহর দাওয়াত দিলেন, বিবি আছিয়া সবার আগে সেই সত্যকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করলেন। কিন্তু তিনি তা গোপন রেখেছিলেন। যখন ফেরাউন জানতে পারল তার আপন স্ত্রী তাঁর প্রভুত্ব অস্বীকার করে মুসার রবের ইবাদত করেন, তখন সে উন্মাদ হয়ে উঠল। সে আছিয়াকে প্রাসাদের সব আরাম থেকে বঞ্চিত করে মরুভূমির তপ্ত বালুতে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিল।
৩. তপ্ত বালি আর পাথরের নিচে ঈমানি পরীক্ষা
ফেরাউনের সৈন্যরা আছিয়াকে উত্তপ্ত সূর্যের নিচে হাত-পা বেঁধে শুইয়ে রাখল। ফেরাউন তাঁর কাছে এসে শেষ সুযোগ দিল—হয় তাকে ‘রব’ মানতে হবে, না হয় পিঠের ওপর বিশাল পাথর চাপা দিয়ে হত্যা করা হবে। আছিয়া (আ.) রাজমুকুটের মায়া ত্যাগ করেছিলেন আগেই। তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে এক অটল প্রশান্তির সাথে প্রার্থনা করলেন—
“হে আমার রব! আপনার কাছে জান্নাতে আমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে দিন এবং আমাকে ফেরাউন ও তার জুলুম থেকে মুক্তি দিন।”
৪. প্রাণহীন দেহের ওপর সেই ব্যর্থ পাথর
ফেরাউন যখন চরম ক্ষোভে তাঁর ওপর বিশাল পাথরটি নিক্ষেপ করার আদেশ দিল, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর চোখের পর্দা সরিয়ে দিলেন। আছিয়া (আ.) জীবন্ত অবস্থাতেই জান্নাতে তাঁর জন্য নির্মিত হীরা-মুক্তার সেই প্রাসাদটি দেখতে পেলেন। জান্নাতের সেই অপরূপ দৃশ্য দেখে তিনি হাসিমুখে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। তাঁর আত্মা যখন আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছে গেল, তখনই ফেরাউনের নিক্ষিপ্ত পাথরটি তাঁর নিথর দেহের ওপর পড়ল। ফেরাউন মনে করেছিল সে জিতে গেছে, কিন্তু বিবি আছিয়া জান্নাতের চিরস্থায়ী মালিকানা নিয়ে ততক্ষণে বিজয়ী হয়ে গেছেন।
গল্পের শিক্ষা:
ঈমানি দৃঢ়তা: সত্যের পথ কঠিন হতে পারে, কিন্তু সেই পথে অটল থাকাই হলো জান্নাতের চাবিকাঠি।
পরিবেশের ঊর্ধ্বে আত্মা: ফেরাউনের মতো পাপিষ্ঠের ঘরে থেকেও আছিয়া (আ.) পৃথিবীর অন্যতম পবিত্র নারীতে পরিণত হয়েছিলেন। অর্থাৎ নেক আমলের জন্য পরিবেশ নয়, বরং ইচ্ছা শক্তিই বড়।
সর্বোত্তম ঘর: দুনিয়ার রাজপ্রাসাদ নশ্বর, কিন্তু আল্লাহর সান্নিধ্যে জান্নাতের একটি ছোট ঘরই মুমিনের আসল ঠিকানা।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম), নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন