প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২

আশাশুনি উপজেলায় ভূগর্ভস্থ স্তর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ

মোঃ আজগার আলী, খুলনা ব্যুরো প্রধান, উজ্জ্বল বাংলাদেশ

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় ভূগর্ভস্থ স্তর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের কলিমাখালী এলাকায় ড্রেজার মেশিন (বলগেট) ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে পরিবেশ বিপর্যয়, ভূমিধস ও জনবসতির মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলিমাখালী ৭৩ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে লুৎফর রহমান মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৭২০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনবান্ধব সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় ৪৬ লাখ ২৫ হাজার ৬৫ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই সড়ক প্রকল্পটি শ্রীউলা ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও এলজিইডির সার্বিক সহযোগিতা রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় বালু সংগ্রহের নামে স্থানীয় কয়েকজন মৎস্য ঘের মালিকের সঙ্গে চুক্তি করে ভূগর্ভস্থ স্তর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সালেহা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কালাম এবং বেসরকারি এনজিও সুশীলন–এর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও নির্বাহী পরিচালকের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
কলিমাখালী গ্রামের মনিরুল ইসলাম ও শাহিনুর ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করে তা সরাসরি রাস্তার কাজে ব্যবহার করছেন। এতে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রকাশ্যে এই অবৈধ বালু উত্তোলন চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের একটি অংশ ও প্রভাবশালী মহলকে ‘ম্যানেজ’ করেই এই অবৈধ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এর ফলে ফসলি জমি, মৎস্য ঘের ও বসতবাড়ি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। যেকোনো সময় ভূমিধস বা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা জানান, ড্রেজার মেশিন দিয়ে ভূগর্ভস্থ স্তর থেকে বালু উত্তোলনের ফলে পানির স্তর নেমে যায়, মাটির স্বাভাবিক গঠন ও উর্বরতা নষ্ট হয় এবং নদী ও জলাশয়ের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। এতে মৎস্য প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ভয়াবহ নদীভাঙন ও কৃষি ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়।
এ বিষয়ে সুশীলনের পরিচালক মোস্তফা আক্তারুজ্জামান পল্টুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা নুরুজ্জামান বলেন, “আমরা শুধু রাস্তা নির্মাণের তদারকি করছি। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
আশাশুনি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী অনিন্দ্য দেব বলেন, “এটি WFP-এর প্রকল্প। ঠিকাদার স্থানীয় জমির মালিকদের সঙ্গে কথা বলে বালু সংগ্রহ করছে। আমাদের দায়িত্ব কেবল কাজের মান তদারকি করা।”
এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিজয় কুমার জোয়ার্দার জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, “রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্টের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের দাবি, অবিলম্বে মৎস্য ঘের ও জমির ভূগর্ভস্থ স্তর থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আশাশুনি অঞ্চলে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ও ভূমিধসের আশঙ্কা ক্রমেই বাড়বে।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম), নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন