প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

বাবার ভালোবাসা

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক

১৯১৭ সালের এক ভয়াল অক্টোবরের রাত।
উত্তাল আটলান্টিক, ঝড়ের গর্জন, আর ডুবে যেতে থাকা একটি যাত্রীবাহী জাহাজ।
সেই জাহাজে ছিলেন ইতালীয় অভিবাসী কাঠমিস্ত্রি আন্তোনিও রুসো—কোলের সবটুকু পৃথিবী হয়ে থাকা পাঁচ বছরের মেয়ে মারিয়াকে নিয়ে।
স্ত্রীহারা আন্তোনিও দারিদ্র্যের হাত থেকে মেয়েকে বাঁচাতে, তাকে আলোয় ভরা এক ভবিষ্যৎ দিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন আমেরিকার পথে। কিন্তু ভাগ্য মাঝসমুদ্রেই দাঁড় করাল সবচেয়ে নির্মম পরীক্ষার সামনে।
জাহাজ কাত হয়ে গেলে, পানি ঢুকে পড়লে, আতঙ্কে মানুষ যখন মানুষকে পিষে ফেলছে—
আন্তোনিও বুঝে যান, লাইফবোটে পৌঁছানো আর সম্ভব নয়।
তখনই তিনি দেখেন একটি ভাঙা পোর্টহোল—শুধু একটি শিশুই যেতে পারবে।
ওপারে অন্ধকার, বরফশীতল সমুদ্র।
দূরে কাঁপতে থাকা আলো—উদ্ধারের আশ্বাস।
তিনি মেয়েকে বুকে চেপে ধরেন।
আর সিদ্ধান্ত নেন এমন কিছু, যা একজন বাবাই নিতে পারে।
তিনি মারিয়াকে সমুদ্রে ছুঁড়ে দেন—
মৃত্যুর দিকে নয়, জীবনের দিকে।
ঝড়ের গর্জন ছাপিয়ে বাবার কণ্ঠ ভেসে আসে—
“সাঁতার কাটো, মারিয়া! আলোর দিকে সাঁতার কাটো!”
সাত মিনিট পর জাহাজ ডুবে যায়।
আন্তোনিও রুসো আর ফিরে আসেননি কোনোদিন।
পঁয়তাল্লিশ মিনিট পর সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা হয় মারিয়াকে—
প্রায় মৃত, কিন্তু জীবিত।
এক অনাথ আশ্রমে বড় হতে হতে মারিয়া বছরের পর বছর ভেবেছিল,
তার বাবা তাকে ফেলে দিয়েছিলেন।
সে বুঝতে পারেনি—ফেলে দেওয়া আর বাঁচিয়ে দেওয়ার মাঝখানে পার্থক্যটা।
ত্রিশ বছর বয়সে সে জানতে পারে সত্যটা—
তার বাবা তালিকাভুক্ত মৃতদের একজন।
আর সে বেঁচে আছে, কারণ তার বাবা নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।
৯২ বছর বয়সে মারা যাওয়ার আগে মারিয়া বলেছিলেন—
“আমি ভেবেছিলাম বাবা আমাকে মেরে ফেলছেন।
আসলে তিনি আমাকে জীবনের দিকে ছুঁড়ে দিয়েছিলেন।”
আজ মারিয়ার চার সন্তান, নয় নাতি-নাতনি, ছয় প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী—
একত্রিশটি জীবন, একটি সিদ্ধান্তের কারণে।
শেষে বাবার জন্য তার কথাগুলো ছিল খুবই সহজ—
“ধন্যবাদ, বাবা। আমাকে জীবনের দিকে ছুঁড়ে দেওয়ার জন্য।
তি আমো।”
💙
বাবা মানে সেই মানুষ,
যে নিজে ডুবে গিয়েও সন্তানের জন্য আলো খুঁজে দেয়।
কিছু বাবা বেঁচে থাকেন না—
তবু সারাজীবন আমাদের বাঁচিয়ে রাখেন।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম), নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন