চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশে দিগন্তজোড়া সরিষার মাঠগুলো এখন মৌমাছি ও মৌচাষিদের গুঞ্জনে মুখরিত। সরিষা ফুলের এই অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মৌচাষিরা। মৌ-বাক্সে মৌমাছির দল সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহে মগ্ন। মৌচাষিরা বলছেন, এ বছর সরিষার ভালো চাষ হওয়ায় মধুবদল আহরণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় প্রায় শতাধিক মৌচাষি ৭ হাজার ৭ শত ১৫টি মৌ-বক্সের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করছেন। উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৭২৫ কেজি (৫১ মেট্রিক টন)। এছাড়া প্রায় ৮ হাজার হেক্টর সরিষা জমিতে মৌ-বক্স বসানো হয়েছে।
মৌচাষি জিল্লুর রহমান জানান, “সরিষা চাষ ভালো হওয়ায় মধু উৎপাদনও ভালো হচ্ছে। এছাড়া ভালো দাম পাওয়ায় মৌচাষিরা মধুর ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। প্রতি কেজি মধু সাড়ে ৩শ টাকা থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।”
সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে আসা মৌচাষি আব্দুল আলিম জানান, “কাঠের বাক্সের ভেতরে মোম দিয়ে তৈরি ছয় থেকে সাতটি ফ্রেমে একটি রানি মৌমাছি রাখা হয়। রানির আকর্ষণে শ্রমিক মৌমাছিরা সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে সেই ফ্রেমে জমা করে। পরে মৌ-বক্স থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়।”
তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার শমিষ্ঠা সেন গুপ্তা জানান, “মৌমাছিরা পরাগায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, ফলে সরিষার ফলনও ভালো হচ্ছে। প্রতি বছর চলনবিল এলাকায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মৌচাষিরা আসেন। তাদের সংগৃহীত মধু পাইকাররা কিনে বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রি করেন। সরিষা ফুল থেকে সংগ্রহ করা মধু শুধু স্থানীয় চাহিদাই মেটাচ্ছে না, বিদেশেও এর চাহিদা রয়েছে। এবার অনুকূল আবহাওয়ায় সরিষার বাম্পার ফলনের পাশাপাশি মধু আহরণের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।”

জহুরুল ইসলাম, তাড়াশ