প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২

সেজদাবনত নবীর ওপর নিষ্ঠুরতা ও আরশ কাঁপানো বিচার

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক

মক্কার কাবার চত্বর তখন এক থমথমে নিস্তব্ধতায় ঘেরা। সেই পবিত্র আঙিনায় একাকী দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ছিলেন দয়ার নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ। তিনি যখন তাঁর রবের দরবারে সেজদায় অবনত হতেন, তখন দুনিয়ার কোনো ভয় বা অপমান তাঁকে বিচলিত করতে পারত না।
কিন্তু অদূরেই কাবার ছায়ায় বসে ছিল মক্কার অহংকারী সর্দার আবু জাহেল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। তাদের অন্তরে ছিল নবীর প্রতি চরম বিদ্বেষ। আগের দিনই মক্কায় একটি উট জবাই করা হয়েছিল। আবু জাহেল তার সঙ্গীদের দিকে কুটিল হাসিতে তাকিয়ে বলল, “তোমাদের মধ্যে এমন সাহসী কেউ আছে কি, যে ওই পচা উটের নাড়িভুঁড়ি নিয়ে আসবে এবং মুহাম্মদ যখন সেজদায় যাবে তখন তার পিঠের ওপর রেখে দেবে?”
১. সেজদাবনত নবীর ওপর নিষ্ঠুরতা
আবু জাহেলের উসকানিতে কুরাইশদের মধ্যে সবচেয়ে পাপিষ্ঠ ব্যক্তি উকবা বিন আবি মুআইত উঠে দাঁড়াল। সে পচা উটের সেই দুর্গন্ধময় ও ভারী নাড়িভুঁড়িগুলো বয়ে আনল। ঠিক যখন দয়ার নবী ﷺ আল্লাহর সামনে পরম শান্তিতে সেজদাবনত হলেন, উকবা সেই নোংরা আবর্জনা তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে সজোরে চাপিয়ে দিল।
অপবিত্র সেই ময়লার ভারে নবীজির পক্ষে মাথা তোলা অসম্ভব হয়ে পড়ল। এই দৃশ্য দেখে আবু জাহেল ও তার সঙ্গীরা পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠল। তারা হাসিতে ফেটে পড়ল এবং একে অপরের গায়ের ওপর গড়িয়ে পড়তে লাগল। দূর থেকে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এই দৃশ্য দেখে ডুকরে কাঁদছিলেন, কিন্তু কাফেরদের প্রতাপের সামনে তখন তাঁর কিছুই করার শক্তি ছিল না।
২. ছোট্ট ফাতেমার বীরত্ব
নবীজির এই চরম অপমানের খবর দ্রুত পৌঁছে গেল তাঁর ছোট মেয়ে হযরত ফাতেমা (রা.)-এর কানে। তিনি তখন নিতান্তই বালিকা। খবর শোনামাত্রই তিনি দৌড়ে কাবার চত্বরে এলেন। কাফেরদের অট্টহাসি উপেক্ষা করে তিনি নিজের কচি হাতে পরম মমতায় বাবার পিঠ থেকে সেই অপবিত্র ময়লাগুলো সরিয়ে দিলেন। শিশুকন্যার চোখে জল থাকলেও তাঁর চেহারায় ছিল এক অদম্য সাহস।
৩. আল্লাহর বিচার ও বদরের সেই কূপ
নামাজ শেষ করে রাসূলুল্লাহ ﷺ শান্তভাবে উঠে দাঁড়ালেন। তিনি কারো সাথে ঝগড়া করলেন না, কোনো গালি দিলেন না। শুধু আকাশের দিকে মুখ তুলে তিনবার উচ্চস্বরে বললেন—
“হে আল্লাহ! আপনি কুরাইশদের পাকড়াও করুন।” অতঃপর তিনি একে একে আবু জাহেল, উকবা, উতবা, শায়বা, ওয়ালিদ এবং উমাইয়া ইবনে খালাফ—এই ছয়জন প্রধান শত্রুর নাম ধরে আল্লাহর আদালতে বিচার সোপর্দ করলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) শপথ করে বলেন, “আল্লাহর কসম! নবীজি ﷺ সেদিন যাদের নাম নিয়েছিলেন, কয়েক বছর পর বদরের যুদ্ধে আমি তাদের প্রত্যেককে নিহত অবস্থায় একটি অন্ধকার কুয়ায় নিক্ষিপ্ত হতে দেখেছি।”
গল্পের শিক্ষা:
চরম ধৈর্য: ব্যক্তিগত অপমানে নবীজি ﷺ কখনো প্রতিশোধ নেননি, বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখেছেন।
বাবার প্রতি মমতা: হযরত ফাতেমা (রা.)-এর ভূমিকা আমাদের শেখায় যে, বিপদে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বয়স কোনো বাধা নয়।
অনিবার্য বিচার: মানুষের আদালতে বিচার না পেলেও আল্লাহর আদালতে অপরাধীর বিচার নিশ্চিত। যারা সত্যকে দমাতে চায়, তাদের পতন হবেই।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার, উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম), নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন