একদা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর নবী হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-কে অহংকারী শাসক নমরুদকে দ্বীনের পথে আহ্বান করার নির্দেশ দিলেন।
হযরত ইব্রাহীম (আঃ) নমরুদের সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: “হে নমরুদ! তুমি এক নিরাকার, সবশক্তিমান আল্লাহ তা’আলার প্রতি ঈমান আনো। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ।”
নমরুদ দম্ভের সাথে জবাব দিল: “হে ইব্রাহীম! তোমার আল্লাহর নিকট আমার কোনো প্রয়োজন নেই। আমি নিজেই তো একজন রব! আমি অল্পদিনের মধ্যে তোমার রবের প্রাণ সংহার করে তাঁর রাজ্য কেড়ে নিব।”
আল্লাহর বিরুদ্ধে নমরুদের অভিযান
নমরুদ তখন চিন্তা করতে লাগল, কিভাবে আল্লাহকে হত্যা করা যায়। ইবলিশ এসে তাকে পরামর্শ দিল। ইবলিশের পরামর্শে নমরুদ চারটি বৃহৎ আকারের ক্ষুধার্ত শকুন পালল। এরপর একটি ছোট চৌকির নিচে শকুনগুলোকে বেঁধে, আর সেগুলোর নাগালের ওপরে গোশতের টুকরো ঝুলিয়ে দিল।
শকুনগুলো গোশতের লোভে উপরের দিকে উঠতে লাগলো। নমরুদ তীর-ধনুক ও একজন সঙ্গী নিয়ে সেই শকুন-বাহনে আরোহণ করল। তার লক্ষ্য ছিল—আল্লাহকে হত্যা করা।
অনেক উপরে ওঠার পর নমরুদ ভাবল, এবার তার কার্যসিদ্ধি হতে পারে। সে আল্লাহকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করল।
অলৌকিক রক্ষা ও ছলনা
এই সময় নমরুদের সঙ্গী লোকটির মনে হেদায়েত এলো। সে নমরুদকে সতর্ক করে বলল: “জাহাপনা! কি দুরআশা আপনার? আল্লাহ যে নিরাকার, সর্বশক্তিমান এবং সকলের ধরাছোঁয়ার ঊর্ধ্বে! তাঁকে কেউ তীর নিক্ষেপ করে হত্যা করতে পারে?”
নমরুদ রেগে তাকে এক ধাক্কা মেরে চৌকির নিচে ফেলে দিল। কিন্তু আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতা জিবরাইল (আঃ) সেই লোকটিকে রক্ষা করলেন।
এরপর আল্লাহ তা’আলা জিবরাইল (আঃ)-কে নির্দেশ দিলেন, নমরুদের নিক্ষিপ্ত তীরের ফলকে রক্ত মাখিয়ে তার আসনের কাছে ফেলে দিতে। নমরুদ রক্তমাখা তীরগুলো দেখে আশ্বস্ত হলো যে, সে ইব্রাহিমের কথিত খোদাকে নিহত করেছে (নাউযুবিল্লাহ)।
এরপর গোশতের টুকরোগুলো নিচে ঝুলিয়ে সে জমিনে ফিরে এলো এবং মহাখুশিতে রাজদরবারে গিয়ে ইব্রাহীম (আঃ)-কে বলল: “হে ইব্রাহীম! তোমার আল্লাহকে আমি হত্যা করে এলাম। এই দেখো রক্তমাখা তীর।”
চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জ
হযরত ইব্রাহীম (আঃ) হেসে বললেন: “ওহে নির্বোধ বাদশা! তুমি তো দূরের কথা, সমগ্র সৃষ্টিকুলের শক্তি একত্র করলেও তাঁর সামান্য পরিমাণ ক্ষতি কেউ সাধন করতে পারবে না। তিনি অদৃশ্যমান, নিরাকার, সর্বশক্তিমান!”
নমরুদ তবু শান্ত হলো না। সে বলল: “ঠিক আছে। তোমার খোদার সৈন্যসামন্তের সংখ্যা কত? আমি তাঁর সাথে যুদ্ধ করতে চাই।”
ইব্রাহীম (আঃ) বললেন: “আমার রবের সৈন্যসামন্তের সংখ্যা অগণিত। তাঁর সৈনিকরা সবসময় প্রস্তুত হয়েই থাকে, শুধু হুকুমের অপেক্ষা মাত্র।”
নমরুদ তার সৈন্যদল নিয়ে প্রস্তুত হতে বলল, এই বলে যে সে আল্লাহর ক্ষমতা চূর্ণবিচূর্ণ করে দেবে।
আমরা এখন পর্যন্ত যে ঘটনাটি উল্লেখ করলাম তা বর্ণনার কিছু পার্থক্যসহ আল কামেল ফিত তারিক নামক কিতাবের প্রথম খন্ডে বিস্তারিত উল্লেখিত রয়েছে।
নমরুদ রেগে গিয়ে ইবরাহিম আ.-কে আগুনে নিক্ষেপ করলো। আল্লাহ তায়ালা জ্বলন্ত আগুনকে তার খলিলের জন্য শীতল করে দিলেন। মহান আল্লাহ আগুনকে নির্দেশ দেন—‘হে অগ্নি, তুমি হজরত ইবরাহিমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৬৯)
শিক্ষা:
নমরুদের এই ঘটনা চরম অহংকার ও মূর্খতার উদাহরণ। আল্লাহকে বস্তু বা মানুষের মতো কল্পনা করা চরম বোকামি। আল্লাহর ক্ষমতা অসীম এবং তিনি তাঁর অহংকারী শত্রুদেরও নিরাশ করেন না—তবে তাদের মূর্খতা বোঝার জন্য।

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক