প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

১৬ ডিসেম্বর: পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয়

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক

রক্ত, ত্যাগ ও গণপ্রতিরোধে অর্জিত চূড়ান্ত বিজয়ের ইতিহাস

১৬ ডিসেম্বর—বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। এই দিনটি কোনো আবেগী গল্পের বিষয় নয়; এটি একটি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার চূড়ান্ত অধ্যায়, দীর্ঘ শোষণ-বঞ্চনার অবসান এবং রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। ১৯৭১ সালের এই দিনে নয় মাসের সশস্ত্র গণযুদ্ধের পর পরাজিত হয় পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী, জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ মনে করে, ১৬ ডিসেম্বর না এলে আজকের স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, স্বাধীন রাষ্ট্রের পাসপোর্ট কিংবা আত্মমর্যাদার সঙ্গে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার অধিকার—কোনোটিই সম্ভব হতো না। এই অর্জন কোনো দয়া নয়; এটি এসেছে লক্ষ শহীদের রক্ত, অসংখ্য মা-বোনের আত্মত্যাগ, নির্যাতন ও সীমাহীন কষ্টের বিনিময়ে।

শোষণের ইতিহাস থেকে মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্যতা

১৯৪৭ সালে বিভক্তির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া পাকিস্তান রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যেই পূর্ব বাংলার মানুষের প্রতি বৈষম্য ও শোষণের বীজ রোপিত হয়। ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক অধিকার—প্রতিটি ক্ষেত্রে বাঙালি জনগোষ্ঠীকে পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করা হয়। ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণজাগরণ—সবকিছু মিলেই বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার পথে প্রস্তুত করে।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও জনগণের রায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা যে দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়, তা-ই মুক্তিযুদ্ধকে অনিবার্য করে তোলে। ২৫ মার্চের গণহত্যা বাঙালি জাতিকে আর পিছু হটার সুযোগ দেয়নি। অস্ত্র হাতে প্রতিরোধই হয়ে ওঠে বাঁচার একমাত্র পথ।

নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও জনগণের অংশগ্রহণ

মুক্তিযুদ্ধ ছিল শুধু একটি সামরিক লড়াই নয়; এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সংঘটিত এক গণযুদ্ধ। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবী—সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে যুদ্ধে যুক্ত হন। বীর মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখযুদ্ধে লড়েছেন, আর সাধারণ মানুষ আশ্রয়, খাদ্য, তথ্য ও সাহস জুগিয়েছেন।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ মনে করে, যাদের বুকের রক্তে বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকা হয়েছে, যাদের জীবনের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা—তাদের আত্মত্যাগ কোনো পরিসংখ্যান নয়, এটি জাতির চেতনার ভিত্তি। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যা ছিল এ জাতিকে মেধাশূন্য করার পরিকল্পিত অপচেষ্টা—যা ইতিহাসে মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত।

১৬ ডিসেম্বর: পরাজয়ের স্বীকৃতি ও স্বাধীনতার ঘোষণা

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয় মুক্তিযুদ্ধ। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে একটি নতুন রাষ্ট্রের—বাংলাদেশ। এই বিজয় শুধু সামরিক নয়; এটি ছিল নৈতিক, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিজয়।

দেশপ্রেমিক জনগণের কণ্ঠে আজও প্রতিধ্বনিত হয় এই উপলব্ধি—স্বাধীনতা মানে শুধু পতাকা ও সংগীত নয়, স্বাধীনতা মানে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা, বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থে আপসহীন অবস্থান নেওয়া।

বিজয়ের দায় ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি অঙ্গীকার

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ মনে করে, বিজয় দিবস কেবল আনুষ্ঠানিক উদ্‌যাপনের বিষয় নয়; এটি আত্মসমালোচনার দিন, দায়বদ্ধতার দিন। শহীদদের রক্তের সঙ্গে কোনো বেইমানি যেন না হয়—এই দায়িত্ব বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের।

ইতিহাসকে বিকৃত না করা, মুক্তিযুদ্ধের সত্য তুলে ধরা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এবং জনগণের অধিকার রক্ষা করাই বিজয়ের প্রকৃত সম্মান। স্বাধীনতার আদর্শ থেকে বিচ্যুতি মানেই শহীদদের আত্মত্যাগকে অবমূল্যায়ন করা—এই উপলব্ধি দেশপ্রেমিক জনগণের চেতনায় আজও জাগ্রত।

বিজয়ের দিনে দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদের আহ্বান

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ জাতির সকল শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের অগণিত আত্মত্যাগকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানায়। একই সঙ্গে দেশপ্রেমিক জনগণের কণ্ঠের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পত্রিকাটি প্রত্যাশা করে—স্বাধীনতার চেতনায় ঐক্যবদ্ধ থেকে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মর্যাদাশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।

১৬ ডিসেম্বর আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—এই দেশ কারও দান নয়, এটি রক্তে কেনা। সেই রক্তের ঋণ শোধ হবে কেবল দেশ ও মানুষের প্রতি সততার মাধ্যমে।

মহান বিজয় দিবসের গৌরবময় ইতিহাস চির অম্লান হোক।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার, উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম-রাজশাহী), সহ-সম্পাদকঃ রুবিনা শেখ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন