সাতক্ষীরা জজ কোর্টের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ এবং তার ছেলে রাসেলকে কারাগারে প্রেরণ করেছে আদালত। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে তাদেরকে সাতক্ষীরা আমলী আদালত-১ এ হাজির করা হলে বিচারক শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ (৫৮) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামারবাসয়সা গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুর এলাকার মৃত মুনসুর রহমানের ছেলে। তার ছেলে রাসেল (৩৫) একই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পুলিশ তাদেরকে আদালতে হাজির করে।
কারাগারে প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট আরিফুর রহমান আলো জানান, সাতক্ষীরা সদর থানায় দায়ের করা হত্যা ও চাঁদাবাজির মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এসব মামলার প্রেক্ষিতেই আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাবেক সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহম্মেদ রবির প্রভাব খাটিয়ে অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ পিপি পদে দায়িত্ব পান। এ সময় তিনি আদালত পাড়া কেন্দ্র করে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হন। এর আগে তিনি দুর্নীতির অভিযোগে বিডিআর থেকে চাকরিচ্যুত হন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় গরুর খাটাল পরিচালনার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক বনে যান। এরই ধারাবাহিকতায় সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুর এলাকায় তিনি পাঁচতলা বিশিষ্ট একটি বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করেন।
জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর থেকে সাবেক পিপি আব্দুল লতিফ ও তার ছেলে রাসেল আত্মগোপনে চলে যান এবং খুলনায় অবস্থান করতে থাকেন। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে তারা সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুর এলাকার পাঁচতলা ভবনের ফ্ল্যাট বিক্রির উদ্দেশ্যে উকিল কমিশনের মাধ্যমে দলিল সম্পন্ন করতে গেলে খুলনার বয়রা এলাকা থেকে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল তাদেরকে আটক করে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ শাহীন বলেন, “সাবেক পিপি লতিফ সাহেব বিগত সরকারের সময়ে বহু নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করেছেন। আজ তার বিচার হচ্ছে—আল্লাহ ছাড় দেন, কিন্তু ছেড়ে দেন না।”
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে আটটি হত্যা ও নাশকতার মামলা এবং তার ছেলে রাসেলের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের হয়। পরে তারা খুলনায় পালিয়ে গিয়ে বয়রা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। সম্প্রতি সাতক্ষীরায় আসতে না পেরে তারা উকিল কমিশনের মাধ্যমে ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রির উদ্যোগ নেন। এ সংক্রান্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই ডিবি পুলিশের অভিযানে শেষ পর্যন্ত বাবা-ছেলে গ্রেফতার হন।

মোঃ আজগার আলী, জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা, উজ্জ্বল বাংলাদেশ