রাজশাহীর বাঘায় খেজুরের রসের পরিবর্তে চিনি, রঙ, চুন ও হাইড্রোজ মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি করছিল এমন পাঁচটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে র্যাব ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাঘা উপজেলার আড়ানি পৌরসভার শাহাপুর গ্রামে যৌথ এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ইব্রাহিম হোসেন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, কারখানাগুলোতে খেজুরের রস ব্যবহার না করে সম্পূর্ণভাবে চিনি ও কেমিক্যাল মিশিয়ে গুড় তৈরি করা হচ্ছে। “এখানে গুড়ের চেয়ে চিনির পরিমাণ অনেক বেশি পাওয়া গেছে, খেজুরের রসের কোনো চিহ্নই পাওয়া যায়নি”।
অভিযানের খবর পেয়ে একটি কারখানার মালিক আসাদুল পালিয়ে যায়। পরে তার স্ত্রী লাকি খাতুন সাংবাদিকদের জানান, তারা চিনি ব্যবহার করে এসব গুড় তৈরি করেন এবং তা নাটোরের গোপালপুর ও লালপুরসহ বিভিন্ন মোকামে সরবরাহ করা হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাঁচটি কারখানাকে ভেজাল গুড় উৎপাদনের দায়ে প্রায় ২ লাখ টাকা জরিমানা করে।
এ সময় র্যাব-৫ এর রাজশাহীর উপ-অধিনায়ক মেজর মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল গুড় তৈরির তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশিয়ে এগুলোকে আখ ও খেজুরের গুড় হিসেবে বাজারজাত করে মানুষকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছিল।”

মোঃ আবু সাঈদ,বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি