প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

নিয়ামতপুরে খাস পুকুরের মাছ লুট প্রসঙ্গে সংখ্যালঘু এলাকাবাসী পুকুরে আমরাই মাছ ছেড়েছি, আমরাই মাছ মেরেছি কেউ মাছ লুট করে নিয়ে যায় নাই

মিলন হোসেন নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি সংবাদ প্রচারিত হয়েছে। নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের পাঁচপুকুরিয়া গ্রামে দুটি পুকুর থেকে মসজিদের ছাড়া মাছ স্থানীয় বিএনপি নেতা লুট করে নিয়ে যায়। এ নিয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করে একজন ব্যক্তি। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ঐ পুকুর দুটি ঠাকুর মান্দার রাজখাড়া জয় জয় কালি মাতা ষ্টেট এর দেবত্তর সম্পত্তি। এর সেবায় দেবাশীষ রায় এবং অশোক রায় বাপ্পি সেবায়েত হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।

পাঁচপুকুরিয়ার ঐ দুটি পুকুরে স্থানীয় লক্ষি মন্দিরের উন্নয়নকল্পে প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় মন্দিরের উন্নয়নের জন্য পুকুর দুটিতে মাছ চাষ করে আসছেন। তারাই মুলত মাছগুলি মারে। রাজখাড়া জয় জয় কালি মাতা দেবত্তর ষ্টেটের সেবায়েতদের প্রতিনিধি হিসাবে স্থানীয় মন্দির কর্তৃপক্ষের অনুরোধে অভিযুক্ত ব্যক্তি মোশারফ হোসেন ও রেজাউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে পাঁচপুকুরিয়া লক্ষি মন্দিরের সভাপতি নিতাই বলেন, পুকুর দুটিতে দীর্ঘদিন যাবত আমরাই মাছ চাষ করে আসছি। গত ১৮ আগষ্ট সোমবার মন্দিরের উন্নয়নের জন্য সবাই মিলে পুকুর দুটিতে মাছ মারা হয়। কুশমইলের মোশারফ ও রেজাউলকে দেবত্তর ষ্টেটের সেবায়েতদের প্রতিনিধি হিসাবে আমরাই ডেকেছিলাম। বরং ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা পতনের পরে ঐ মোজাম্মেল হকসহ কয়েকজন দুষ্কৃতিকারীরাই জোরপূর্বক আমাদের পুকুরে আমাদের ছাড়া মাছ লুট করে নিয়ে গেছে। আমরা দেশের পরিস্থিতির কারণে তখন কিছু বলতে পারি নাই।

লক্ষিমন্দিরের সদস্য মানিক চন্দ্র বলেন, বিগত ২০০৯ সাল থেকে পুকুরদুটিতে আমরা মাছ চাষ করে লক্ষিমন্দিরের এবং বিভিন্ন ধর্মীয় কাজ করে থাকি। মসজিদ কমিটি থেকে কোন মাছ ছাড়া হয় নাই। কয়েকজন স্বার্থনেষী ব্যক্তি অভিযুক্ত মোশারফ ও রেজাউলকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হয়রানী করার জন্য এবং আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়কে ছোট করার জন্য মিথ্যে অভিযোগ তুলেছে। পুকুরদুটি গত জুন মাসে রাজখাড়া শ্রী শ্রী জয় কালি মাতার দেবত্তর ষ্টেটের সেবায়েতদের কাছ থেকে মন্দিরের উন্নয়নের জন্য লিখিতভাবে লিজ নিয়েছি।

উক্ত ওয়ার্ডের সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য নারায়নী বলেন, পুকুরে আমরা হিন্দু সম্প্রদায় মন্দিরের কাজের জন্য মাছ ছাড়ছি।

স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম বলেন, আমাদের গ্রামের পুকুরে মাছ মারা নিয়ে যে দ্বন্দ্ব, যারা মসজিদের দোহাই দিয়ে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যে। মসজিদ কমিটি থেকে কোন মাছ ছাড়া হয় নাই। মাছ হিন্দু সম্প্রদায়ির ওরাই ছেড়েছে।

অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন বলেন, আমি কোন পুকুরের মাছ মারি নাই। পাঁচপুকুরিয়া গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের সাথে আমার অনেকদিন যাবত রাজনৈতিক কারণে স্বক্ষতা রয়েছে। লক্ষিমুন্দরের সভাপতিসহ অন্যান্য গ্রামবাসী দুটি পুকুর দেবত্তর সম্পত্তির বলে রাজখাড়া শ্রী শ্রী জয় কালিমাতা দেবত্তর ষ্টেটের সেবায়তদের কাছ থেকে মন্দিরের উন্নয়নকল্পে ভোগদখর করে খাচ্ছে। তারা দীর্ঘ ২০০৯ সাল থেকে মাছ চাষ করে আসছে। সম্প্রতি ২০২৪ সালের শেখ হাসিনার পতনের কয়েকদিন পর পাঁচপুকুরিয়া মোজাম্মলসহ সহ কয়েকজন ব্যক্তি ঐ পুকুরের মাছ জোরপূর্বক লুট করে নিয়ে যায়। দেশের পরিস্থিত এবং তারা সংখ্যালঘু বলে ভয়ে কিছু বলতে পারে নাই। গত ১৩ আগষ্ট আবারও তারা ঐ পুকুরের মাছ লুট করতে গিয়েছিল। পুলিশের সহযোগিতায় তা রোধ করা গেছে। তাই তারাগত ১৮ আগষ্ট পুকুরের মাছগুলি মারার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। আমাকে তারা দেবত্তর ষ্টেটের সেবায়েতের প্রতিনিধি হিসাবে ডেকেছিল। তাই আমি ও রেজাউল সেখানে যাই। যারা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ দায়ের করেছেন তারা আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হয়রানী করার জন্য করেছে। যা সম্পূণূ মিথ্যে ও বানোয়াট। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

দেবত্তর ষ্টেটের সেবায়েত অশোক রায় বাপ্পি বলেন, রাজখাড়া শ্রী শ্রী জয় কালি মাতার দেবত্তর ষ্টেটের নিয়ামতপুর ও মান্দায় ৩শ ৮০টি পুকুর আছে। সবগুলোই জয়কালি মাতার দেবত্তর ষ্টেটের। পাঁচপুকুরিয়ায় দেবত্তর ষ্টেটের ৪টি পুকুর রয়েছে। যে দুটি পুকুর নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে সেগুলিও আমাদের দেবত্তর ষ্টেটের। সুতরাং মোশারফকে নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে তা বিছিন্ন ঘটনা। ঐ পুকুরদুটি পাঁচপুকুরিয়া লক্ষিমন্দিরের উন্নয়নকল্পে মাছ চাষের জন্য প্রদান করা হয়। যেন এই আয় দিয়ে মন্দিরের সংস্কার ও অন্যান্য ধর্মীয় কাজগুলো হবে। মোশারফ দীর্ঘ ২০ বছর যাবত দেবত্তর ষ্টেটের সাথে কর্মরত আছে। তাই সে সেখানে আমাদের প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত ছিল। সুতরাং যারা মোশারফ এর বিরুদ্ধে মাছ লুটের অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যে বনোয়াট। পুকুরদুটি দেবত্তর ষ্টেটের, সেবায়েতের সম্পত্তি। আমরা সবকিছু দেখাশুনা করতে পারি না। তাই মোশারফ আমাদের প্রতিনিধি হিসাবে সবকিছু দেখাশুনা করে। সেই কাজই সে সেখানে করতে গেছে। তাকে রাজনৈতিকভাবে ও সামাজিকভাবে হয়রানী করার জন্য এই মিথ্যে অভিযোগ করেছে।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার, উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম-রাজশাহী), সহ-সম্পাদকঃ রুবিনা শেখ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন