ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন মুগদা- এক সময়ের অপরাধের গহ্বর, যেখানে দিনের আলোয় প্রকাশ্যে চলতো মাদক কারবার, দেহ ব্যবসা, জুয়ার আসর, চুরি-ছিনতাই আর চাঁদাবাজির রমরমা বাজার। বহুকাল ধরে এখানকার জনজীবন ছিলো আতঙ্ক, ভয়ের অবসাদ আর অপরাধচক্রের দৌরাত্ম্যে জর্জরিত।
তবে ২৪ সালের ৫ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাজেদুর রহমান যেনো হয়ে উঠেছেন এই অপরাধরাজ্যের দুর্নিবার ত্রাস। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি কেবল আইন প্রয়োগ নয়, বরং অপরাধীদের শেকল পরানোর অবিচল শপথ নিয়েছেন। মাদকচক্রের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে, অপরাধীদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে দিনরাত মাঠে থেকে আইন-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই চালাচ্ছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার মুগদা থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত ওপেন হাউস ডে সভায় ওসি সাজেদুর রহমানের কণ্ঠে শোনা গেলো কঠোর হুঁশিয়ারি। সভায় উপস্থিত ছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান, স্থানীয় মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম, স্কুল-কলেজের অধ্যক্ষ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধি, বাড়িওয়ালা ও বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী।
ওসি সাজেদুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দেন, আপনার এলাকায় যদি একজনও মাদক ব্যবসায়ী বা সেবনকারী থাকে, আমাদের জানান। আপনার পরিচয় গোপন থাকবে, কিন্তু অপরাধী গোপন থাকবে না। মাদকের রসদ কেটে ফেলার জন্য আমরা যেকোনো মাত্রার অভিযান চালাবো।
তিনি বাড়িওয়ালাদের উদ্দেশে কড়া নির্দেশ দেন, আপনার বাসায় কারা ভাড়াটিয়া হয়ে আসছে, তাদের ভোটার আইডি নিন, পটভূমি যাচাই করুন। অপরাধীদের আশ্রয়দাতা হিসেবে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
সভায় এলাকাবাসী মুখ খুলে তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন, আর প্রতিটি অভিযোগ নোটবুকে তুলে নেন ওসি সাজেদুর। মাদক, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি- প্রতিটি অপরাধের শেকড় উপড়ে ফেলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
মুগদার মানুষের দীর্ঘদিনের শ্বাসরুদ্ধ জীবন এবার হয়তো সত্যিই অপরাধমুক্ত আকাশ দেখবে- যদি ওসি সাজেদুরের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকে এবং জনগণ সাহস নিয়ে তথ্য প্রদান করে।

প্রিয়া চৌধুরী 