এ যুগের নতুন পাতি “মাস্তান” বা “গুষ্টিগিরি” যারা করে এবং যারা বিভিন্ন “পেশায় কলম বাজি” করেন তাদের উদ্দেশ্যে বলি সব যায়গায় কিন্তু মাস্তানী বা গুষ্টিগিরি চলে না।
জীবন থেকে কিছু ঘটনা তুলে ধরলাম
১ / ২০০৪ সাল তাড়াশ ডিগ্রি কলেজ এর ফর্ম ফিলাপ। কলেজ থেকে ছাত্রদল কে ফর্ম দেবে না,সবাই চুপ কারণ প্রিন্সিপাল ছিলেন বিএনপির ইব্রাহিম স্যার। এতোদিন কলেজ শাখার রাজনীতি করে ফর্ম পাবো না আমার তো মাথাই নষ্ট। সরদার শাহিন কাকা আর মোহাসিন ভাই এর সাথে কথা বলে ২/৩ জন বন্ধ সাথে নিয়ে একাই ফিলাপ বন্ধ করে দিয়েছিলাম। ইব্রাহিম স্যার, আরজু ভাই (তখন বিএনপির সভাপতি ছিলেন) রহিম স্যার, (তখন বিএনপির সাংগঠনিক ছিলেন) তারা কিন্তু দাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমার ফিলাপ বন্ধের কান্ডকারখানা দেখেছে। আরো অনেক কিছু ঘটেছে সংক্ষেপে বললাম।
২/ ২০১৩/১৪ সাল হবে,আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের এক ম্যাডাম ছিলো, তিনি তার লেকচার এর ৭০% সময় ব্যায় করতো ইসলাম বিদ্বেষী কথা বর্তা বলে। একদিন রাগের মাথায় মাত্র দুই বন্ধু মিলে প্রতিবাদ করে ম্যাডাম কে ক্লাস রুম থেকে বের হতে বাধ্য করেছিলাম। এই নিয়ে অরো অনেক কিছু ঘটে গিয়েছে সংক্ষেপে বললাম। আওয়ামী লীগের দালাল মার্কা শিক্ষক দের কাছে কখনো মাথা নত করি নাই। এডমিট ছাড়া, অনার্স ফাইনাল পরিক্ষা দিয়েছি, ডিপার্টমেন্ট আমাকে কোন সহযোগিতা করে নাই, আমি সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমার বিষয় খুলে বলে এডমিট ছাড়াই পরিক্ষা দিয়েছি। সবার অনার্স রেজাল্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে দিলেও আমার নিতে হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবন থেকে। অনেক সমস্যায় পরেছিলাম তবুও কাউকে বলিনাই বুঝতেও দেই নাই, কারো কাছে মাথা নত করি নাই।
৩/ ২০১৪/১৫ সাল সবে অনার্স ফাইনাল শেষ করেছি, নদী ভাঙ্গন নিয়ে গবেষণার মোনগ্রাফ জমা দেওয়ার শেষ দিনের ঘটনা। আজাদ স্যার ছিলেন আমার ১০ জন এর গ্রুপের দায়িত্বে। প্রায় ১ বছর গবেষণা শেষে একদম শেষের দিন স্যার বললো কিছুই হয়নি। আমার অপরাধ আমি নাকি পড়াশোনা না করে অন্যের দেখে শুধু শুধু মনগড়া একটা মোনগ্রাফ তৈরি করেছি। এই বলে স্যার কলম হাতে নিয়ে ভুলধরা শুরু করলো আর কাটা শুরু করলো। মাথাই নষ্ট, সেদিন ছিলো শেষ দিন, সবাই জমা দিয়েছে আমি একা হয়ে যাবো, পরে আবার জামা দিতে পারবো কি না তাও গ্যারান্টি নেই। তাই সঙ্গে সঙ্গে আজাদ স্যার এর হাত থেকে কলম কেরে নিয়ে বললাম একটা জায়গায় কলম এর দাগ দিতে পারবেন না, কিছুই হয়নি ভালো কথা, আমাকে D/C
গ্রেড দেন কিন্তু নতুন করে করা সম্ভব না। তার পর অনেক কাহিনি সংক্ষেপে বললাম।
এতো প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও ইন্টার, অনার্স, মাস্টার্স শেষ করেছি এবং এখনো টিকে আছি। তাই আমাকে কেউ মাস্তানির ভয় দেখাবেন না, আমাকে কেউ প্রশাসনের ভয় দেখাবেন না, আমাকে কেউ কলমের ভয় দেখাবেন না। যে কলম অযথা লেখালেখি করে সে কলম কেরে নিতে আমার একটুও সময় লাগবে না।

Tutul 