প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

রাজশাহী থেকে ভারতকে কঠোর হুশিয়ারী রুহুল কবির রিজভীর

মোঃ সুজন আহাম্মেদ, রাজশাহী

মোঃ সুজন আহাম্মেদ, রাজশাহী: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভারতকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিচ্ছেন ভালো কথা কিন্তু তার কথা শুনে বাংলাদেশকে যদি অস্থিতিশীল করতে চান, তাহলে আপনাদের জন্য এটা ভালো হবে না। বাংলাদেশ সিকিমও নয়, ভূটানও নয় ১৮কোটি দেশের মানুষ। এটা পার্শ্ববর্তী দেশের পলিসি মেকারদের মনে রাখতে হবে। আজকে বাংলাদেশ নয় আন্তর্জাতিক ভাবে প্রশ্ন নিজেরা গণতান্ত্রিক হয়ে অন্য দেশের গণতন্ত্রকে কিভাবে ধ্বংস করছেন, এটা কেউ মেনে নিতে পারে না। রাজশাহীত রোববার বিএনপি পরিবারের আয়োজনে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ছাত্র জনতার আন্দোলনে হাজার হাজার নিরীহ ছাত্র জনতা কে যে হত্যা করেছে। সেই ফেরাউন শেখ হাসিনা কে আপনারা কিভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন? এটা ঠিক না। খুনি শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার দোসোররা এখনো দেশ অবস্থান করছে। এদের বিচার করতে হবে।
তিনি বলেন, স্বৈরাচার সরকারের সচিবদের রেখে নির্বাচন কমিশন সহ রাষ্ট্র সংস্কার হবে না। এই সরকারকে তারা ব্যর্থ করে দিবে। উপদেষ্ঠা আলী ইমাম মজুমদার সম্পর্কে রিজভী বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময় মুইনুদ্দিন ফখরুদ্দিনের এজেন্টা বাস্তাবায়ন করেছেন, শেখ হাসিনার এজেন্টাও বাস্তবায়ন করেছেন। এখন যদি তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্বে থাকেন তাহলে ড. ইউনুস এর রাস্ট্র সংস্কার কার্যক্রম সফল হবে না। রুহুল কবির রিজভী আরো বলেন, রাষ্ট্রিয় মদদে শেখ হাসিনার পৃষ্টপোষকতায় বাংলাদেশের অর্থনীতি লুট হয়েছে। শেখ হসিনা যাদের দিয়ে গুম খুন রক্তপাতা করিয়েছে, গণতান্তিক আন্দোলনে গুলি চালাতে বলছে, তাদের তিনি অবাধে লুটপাট করার সুযোগ করে দিয়েছে। তাদের পেতাত্ম যদি এই অন্তর্বতীকালীন সরকার থাকে তাহলে তারা কখনাই এই সরকারকে সমর্থন দিতে পারে না। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখার জন্য এত জঘন্য কাজ করেছেন সরকারি আমলারা যেমন সচিব, ডিসি ও পুলিশ বিভাগসহ প্রশাসনের আরো অনেকে। তারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় মদদে শেখ হাসিনার পৃষ্ঠপোষকতায় আওয়ামী লীগের নেতারা এস আলম গ্রুপ এবং তার দোসররা দেশের টাকা অবাধে লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। দেশ এখন সংস্কার কাজ চলেছে। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারকে টিকে রাখার জন্য যারা কাজ করেছিলেন তারা যদি ড. ইউনুস সরকারে থাকে, তাহলে তার সংস্কার কাজের উদ্দেশ্য সফল হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিগত সরকারের আমলে ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাদের অস্ত্রের লাইসেন্স দিয়েছিল, কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই লাইসেন্স বাতিল করেছেন। তবে সেই পিস্তল এখনো জমা দেয়নি এবং উদ্ধারও হয়নি। এগুলো উদ্ধার করতে হবে। না হলে তারা ঘাপটি মেরে থেকে মাথা চাঁড়া দিয়ে উঠবে। এত আবারও গণতন্ত্র হুমকীর মধ্যে পড়তে পারে। কারন হাসিনা সরকারের আমলে আমলা থেকে নেতাকর্মীদের হাতে অনেক অবৈধ টাকা রয়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও ট্যানেল বানিয়ে শেখ হাসিনাসহ তাঁর দোসররা বহু টাকা বিদেশে পাচার করেছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, চলতি বছরের গত জুলাই মাসে শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যে গণহত্যা চালিয়েছে তাতে সরকারি হিসেবে চেয়েও অনেক বেশি নিহত হয়েছেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা এসেছি। বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার অন্যায় অত্যাচার, জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এমনকি আয়না ঘরের মতো নির্যাতনে যারা শিকার হয়েছেন তাদের পরিবারের পাশে দেশ নায়ক তারেক রহমান সব সময় ছিলেন এখনো আছেন বলে জানান।
বক্তব্য শেষে শহীদ মিনারুল, সাকিব আনজুম ও হাসিনুদ্দিন বাপ্পিদের পরিবারকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রদত্ত উপহার প্রদান করে করা হয়।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহবায়ক এডভোকেট এরশাদ আলী ঈশার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আমার বিএনপি পরিবারের আহবায়ক আতিকুর রহমান রুমন, উপদেষ্টা আলমগীর কবীর বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য ফারজানা পুতুল, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মার্শাল, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা বিএনপি’র সদস্য দেবাশিষ রায় মধু, রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদা, সদস্য সচিব মামুনুর রশীদ মামুন, জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব অধ্যাপক বিশ^নাথ সরকার, মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন, ওয়ালিউল হক রানা, আসলাম সরকার, শফিকুল ইসলাম শাফিক, জয়নুল আবেদীন শিবলী ও বজলুল হক মন্টু, জেলা বিএনপি’র গোলাম মোস্তফা মামুন, রায়হানুর আলম রায়হান, আলী হোসেন ও তোফায়েল হোসেন রাজ ও মো: আলাউদ্দন । আরো উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় সাবেক সহ-সভাপতি ও রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন, মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি, জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল সরকার ডিকো, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেক, সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান জনি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান লিটন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরফিন কনক, মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রোকসানা বেগম টুকটুকি, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি এডভোকেট রওশন আরা পপি, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সকিনা খাতুন, রাজশাহী জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক শফিকুল আলম সমাপ্ত, সদস্য সচিব আকুল হোসেন মিঠু, মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক শরফুজ্জামান শামীম, সদস্য সচিব আশরাফ আলী, মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল আলী পাখি, সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দিন, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রোকনুজ্জামান আলম, মহানগর বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য আরিফুল শেখ বনি, মহানগর মৎসজীবী দলের সভাপতি জাকের আলী শান্তি, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি বাবুল ও সাংগঠনিক সম্পাদক আমজাদ।
এছাড়াও রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি, সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমান সৌরভ, রাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ রাহী, সহ মহানগর ও জেলা থেকে আগত বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী ও সমর্থকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিষ্ঠাতা, ক্যাপশন এবং ভিডিও নিউজ এডিটরঃ মো: রাজিবুল করিম রোমিও, এম, এস, এস (সমাজ কর্ম-রাজশাহী), প্রধান উপদেষ্টাঃ মো: সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মো: মাহিদুল হাসান সরকার, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ মো: আ: হান্নান মিলন, সহকারী সম্পাদকঃ রুবিনা শেখ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: আব্দুল আজিজ, নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ ফারুক হোসাইন, বার্তা সম্পাদকঃ মো: মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন