ইসরায়েলের বৃহত্তম তেল শোধনাগার হাইফার বাজানে ইরান ও হিজবুল্লাহ হামলা চালিয়েছে। হামলার পর বাজান ওয়েল রিফাইনারি বা তেল শোধনাগারে আগুন জ্বলতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল–১৩। তবে এই বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয় যে, ইরানি ও হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র শোধনাগারটিতে সরাসরি আঘাত হেনেছে নাকি কোনো শ্র্যাপনেল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুসালেম পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, আজ সোমবার ইসরায়েলের ওপর ইরানের সর্বশেষ মিসাইল হামলার সময় হাইফা শহরে আঘাতের খবর পাওয়া গেছে। প্রাথমিক ইঙ্গিত অনুযায়ী, শহরের শিল্পাঞ্চলে একটি মিসাইল বা এর ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়েছে।
উঠে আসা বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, আঘাতপ্রাপ্ত এলাকাটি বাজান তেল শোধনাগারের অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবকাঠামোর ভেতরে বা তার কাছাকাছি। এর আগেও বিভিন্ন হামলায় এই শোধনাগারটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। আগের হামলাগুলোতে মিসাইলের স্প্লিন্টারের আঘাতে এই স্থাপনায় স্থানীয়ভাবে ক্ষয়ক্ষতি এবং সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটেছিল, তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘উত্তর ইসরায়েলের একটি স্থানে আঘাতের খবর পাওয়ার পর রিজার্ভ এবং নিয়মিত বাহিনীর উদ্ধারকারী দলগুলো সেখানে রওনা হয়েছে।’ দেশটির পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রণালয় সংবাদমাধ্যম মা’রিভকে জানিয়েছে, শোধনাগার কমপ্লেক্সের একটি পেট্রোল ট্যাংকে আগুন জ্বলছে এবং সেখান থেকে ঘন ধোঁয়া বের হচ্ছে। তবে এই বিপজ্জনক রাসায়নিকের কারণে ওই এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বড় কোনো ঝুঁকির সম্ভাবনা নেই। কমপ্লেক্সের আশপাশের বাসিন্দাদের ঘরের জানালা বন্ধ রাখতে এবং বাইরে অবস্থান না করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগে, গতকাল রোববার নেওত হোভাব শিল্পাঞ্চলে একটি ইরানি মিসাইল আঘাত হানে। এতে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং বিপজ্জনক রাসায়নিক চুইয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাসায়নিক চুইয়ে পড়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত রামাত নেগেভ আঞ্চলিক কাউন্সিলের আশপাশের শহরগুলোতে কোনো ঝুঁকির আশঙ্কা নেই।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিস্ফোরণের তীব্রতায় সৃষ্ট শকওয়েভে একজন সাবেক বা প্রাক্তন ব্যক্তি সামান্য আহত হয়েছেন।
