যশোরের মণিরামপুর বিদ্যুৎ অফিসের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ওপর ইচ্ছামতো এবং অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোনো প্রকার মিটার রিডিং না দেখেই অফিস কক্ষের টেবিল বসে ‘মনগড়া’ বিল তৈরি করায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
উপজেলার পৌরসভার ৪নং দূর্গাপুর-স্বরুপদাহ ওয়ার্ডের গ্রাহক মোঃ ইয়াকুব আলী, পিতা: মৃত রহমাতুল্যাহ বিশ্বাস এবং তার স্ত্রী মনোয়ারা পারভীনের নিজের বাসায় ব্যবহৃত ২টি মিটারের মার্চ/২৬ মাসের মনগড়া বিল তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হচ্ছে, গ্রাহক মো: এয়াকুব আলী, হিসাব নং-১০১১০১২৭১১৬৬৫ মার্চ/২৬ মাসে মোট ২৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে তার বিল করা হয়েছে, ২২০ টাকা, এবং
এবং গ্রাহক মনোয়ারা পারভীন, হিসাব নং- ১০১১০১২৭১১৬৪৭ মার্চ/২৬ মাসে ৩০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে তার বিল করা হয়েছে ২০১ টাকা। একই বাসার ২ টি মিটারের এই বৈষম্য বিদ্যুৎ বিল করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে গ্রাহকরা।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, মিটারের প্রকৃত রিডিংয়ের চেয়ে বিলে কয়েকশ ইউনিট বেশি লিখে দেওয়া হয়েছে।
কালীবাড়ি রোডের একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, “গত মাসে আমার দোকানে বিদ্যুৎ বিল এসেছে আগের মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। অথচ দোকানে নতুন কোনো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম লাগানো হয়নি। মিটার রিডারকে এলাকায় দেখাই যায় না, তারা অফিসে বসেই যা খুশি লিখে দিচ্ছে।”
অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত বিল নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে গেলে গ্রাহকদের পোহাতে হয় নানা ভোগান্তি। দিনের পর দিন ঘুরেও সঠিক সমাধান পাচ্ছেন না অনেকে। উপরন্তু, বিল সময়মতো পরিশোধ না করলে লাইন কেটে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ মানুষ।
সচেতন মহলের মতে, মিটার রিডারদের গাফিলতি এবং যথাযথ তদারকির অভাবেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক সময় নির্দিষ্ট টার্গেট পূরণ করতে বা লোকসান লুকাতে সাধারণ গ্রাহকদের ঘাড়ে বাড়তি ইউনিটের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
মণিরামপুরের সাধারণ মানুষের দাবি, এই ‘বানিজ্যিক হয়রানি’ বন্ধ করতে হবে। যথাযথ মিটার রিডিং গ্রহণ এবং বিলিং পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

