আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দক্ষিণাঞ্চলের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। বিশেষ করে সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ এবং খানজাহান আলীর মাজার এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটিতে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে বাগেরহাট জেলায় ভিড় করেন। বিশেষ করে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ এবং খানজাহান আলীর মাজার এলাকায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি থাকে।
এই পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, র্যাব, কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগের সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র, প্রবেশপথ, পার্কিং এলাকা ও নদীপথে বাড়তি টহল জোরদার করা হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, সুন্দরবনে ভ্রমণকারী পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নদীপথে নিয়মিত টহল চালানো হবে এবং পর্যটকবাহী ট্রলার ও লঞ্চগুলোতে নিরাপত্তা নির্দেশনা কঠোরভাবে মানতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক নৌযান ও ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে ষাটগম্বুজ মসজিদ ও খানজাহান আলীর মাজার এলাকায় ঈদের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি ও পর্যটকের সমাগম ঘটে। সে কারণে এসব এলাকায় সিসিটিভি নজরদারি, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং ভ্রাম্যমাণ টহল জোরদার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, “ঈদ উপলক্ষে আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।”
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে ঈদের ছুটিতে বাগেরহাটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে আরও বেশি পর্যটক আসবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

