চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সাতরসিয়া এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিল দখলের চেষ্টা করেন সন্ত্রাসীরা।
শুক্রবার (১৩ মার্চ ) দুপুরে চৌধুরী ইসমাইল সাজ্জাদ জোহাদ ওয়াকফ স্টেটের কুমিরাদহ বিলে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৮/১০ জনের একটি দল কুমিরাদহ বিলের পূর্ব পাশে পরপর চারটি ককটেল নিক্ষেপ করে।এবং বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন জড়ো হতে শুরু করলে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায় তারা।
স্থানীয়রা জানান, এই চৌধুরী ইসমাইল সাজ্জাদ জোহাদ ওয়াকফ স্টেটের কুমিরাদহ বিল মূলত সরকারি খাস জমি ছিল, সরকার থেকে ডিসি আর এর মাধ্যমে লিজ দেওয়া হতো, আওয়ামী লীগ সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর, মামলার মাধ্যমে চৌধুরী ইসমাইল সাজ্জাদ জোহাদ ওয়াকফ স্টেটের অন্তর্ভুক্ত হয়,কুমিরাদহ বিল, এবং মতুয়ালী আলফাজ উদ্দীন মাছ চাষাবাদ করেন। চাষাবাদে লাভ না হওয়ায় ১০/১০/২০১৫ সালে এক অঙ্গিকার নামায় লিখিত ভাবে লিজ দেন আলফাজ উদ্দীনসহ ৫ শত জেলে পরিবারকে। এবং লিজ ছাড়াও তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেন কাইয়ুম রেজা চৌধুরী, অঙ্গিকার নামায় চৌধুরী বলেন, আমি যতদিন পর্যন্ত তোমাদের টাকা ফেরত না দিতে পারব আমার কুমিরাদহ বিল তোমাদের নামে তিন বছর পরপর অটো রেনুয়াল হবে। আলফাজ উদ্দীন ঐ এলাকার ৫ শত জেলে পরিবার নিয়ে মাছ চাষ করে আসছে, কিন্তু মাঝে মধ্যে কাইয়ুম রেজা চৌধুরী তাদের টাকা ফেরত না দিয়ে, উল্টো লোকজন দিয়ে একাধিক বার ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিল দখলের চেষ্টা করেন, কাইয়ুম রেজা চৌধুরী ধনী ব্যক্তি হলেও তিনি এলাকায় চিটার নামে পরিচিত।
লিজকৃত বিলের মালিক আলফাজ উদ্দীনের ছেলে, জিহাদ হাসান রকি বলেন, আমরা বিলের পশ্চিম দিকে অবস্থান করছিলাম, হঠাৎ করেই পূর্ব দিকে পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই, এবং থানা পুলিশকে জানায়, থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে এসে দুই পক্ষের সাথে কথা বলেন এবং উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেন। এবং দুই পক্ষকে নিজ নিজ কাগজ পত্র নিয়ে থানায় আসতে বলেন।
আলফাজ উদ্দীন বলেন, চৌধুরী ইসমাইল সাজ্জাদ জোয়াদ ওয়াকফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লী, কাইয়ুম রেজা চৌধুরীর নিকট কুমিরাদহ বিল ইজারা নেওয়া হয়েছে। ইজারা নেওয়া থাকলেও আমাদের ক্ষতি করার জন্য তিনি বিভিন্ন ধরনের কাজ করে যাচ্ছেন ।
তিনি আরও বলেন, আমি শিবগঞ্জ সনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা করি কাইয়ুম রেজা চৌধুরীর বিরুদ্ধে, মামলা নম্বর ২০৯/২৩ , আমার মামলা বাতিলের জন্য ২৪-০৮-২০২৫ ইং সালে আবেদন করেন কাইয়ুম রেজা চৌধুরী, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই মামলার আবেদনটি বাতিল করেন সিনিয়র সহকারী জজ আদালত এবং আমার পক্ষে মামলার আদেশ দেন সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, আদেশে বলা হয়েছে, দরখাস্তকারী/বিবাদী পক্ষের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত প্রতিপক্ষের/ বাদীর বিরুদ্ধে দোতরফা সূত্রে বিনা খরচায় না মঞ্জুর করা হল । আদেশে আরও বলা হয়েছে, যে পক্ষ দখলে আছে তারাই দখলে থাকবে। আদেশে উভয় পক্ষকে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে আলফাজ উদ্দিনের ২০৯/২৩ নম্বর মামলা এখনও চালু রয়েছে।
আলফাজ উদ্দীন আরও বলেন , এই আদেশের পরই প্রধান অভিযুক্ত কাইয়ুম রেজা চৌধুরী, আমি ও আমার ৫ শত জেলে পরিবারের উদ্দেশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, আদালতের মাধ্যমে না পেলে “প্রয়োজনে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে খুন-জখম করে বিল দখল করব।” এই হুমকির কারণে আমি ও আমার ৫ শত জেলে পরিবার দিন কাটাচ্ছি চরম আতঙ্কে।
তবে এ বিষয়ে কাইয়ুম রেজা চৌধুরীর সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি, তার মুঠোফোনে ফোন দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন, কুমিরাদহ বিলে কোন ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি, উভয় পক্ষের লোকজন বিলে অবস্থান করছিল, কোন সহিংসতা হয়নি আমরা এলাকায় শান্তি বিরাজের লক্ষ্যে দুই পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

