২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের উদ্যোগে প্রচারণা কার্যক্রম; পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রেখে এডিস মশা দমনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান, ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশে পালিত হয়েছে ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস–২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে ফেনীতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর অংশ হিসেবে আজ ১৪ মার্চ ফেনীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য প্রচারণামূলক র্যালি ও জনসচেতনতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এই র্যালিতে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নানা বার্তা প্রদান করেন। র্যালিটি হাসপাতাল চত্বর ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
আয়োজকরা জানান, ডেঙ্গু বর্তমানে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার প্রজনন বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তাই সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এই রোগের বিস্তার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
র্যালি চলাকালে স্বাস্থ্যকর্মীরা জনগণকে সচেতন করার জন্য ডেঙ্গুর লক্ষণ, প্রতিরোধের উপায় এবং এডিস মশার প্রজননস্থল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তারা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মশার বংশবিস্তার বন্ধ করা। এজন্য বাসা-বাড়ি ও আশপাশে কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পরিষ্কার পানি জমে না থাকে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
চিকিৎসকরা বলেন, এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার পানিতে জন্মায় এবং দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, পানির ট্যাংক, ফ্রিজের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবনের জায়গা কিংবা ছাদের পানির ট্যাংকে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। একই সঙ্গে বাসা ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারী স্বাস্থ্যকর্মীরা জনগণের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান যে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; এ ক্ষেত্রে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। পরিবার, প্রতিবেশী এবং পুরো সমাজকে একসঙ্গে সচেতন হলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো— জমে থাকা পরিষ্কার পানি অপসারণ করা, বাসা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন করা।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আরও জানান, ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেওয়া উচিত। জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ব্যথা বা বমি ভাবের মতো লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক থাকতে হবে।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম জনগণের মধ্যে ডেঙ্গু সম্পর্কে সঠিক ধারণা তৈরি করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস–২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে ফেনীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গুমুক্ত নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

