মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বর্তমানে এক চরম উত্তেজনা ও ধোঁয়াশা বিরাজ করছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার ভাই ইদ্দো নেতানিয়াহুর মৃত্যু নিয়ে ছড়িয়ে পড়া খবর এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে যখন মার্কিন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন যুদ্ধবিরতির চেষ্টায় কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন, ঠিক তখনই ইরানের নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলি শীর্ষ নেতৃত্বের পতনের খবর আন্তর্জাতিক মহলে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
** সিজারিয়ায় হামলা ও স্কট রিটারের চাঞ্চল্যকর দাবি:- এই খবরের সূত্রপাত মূলত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা ও সমর বিশ্লেষক স্কট রিটারের একটি কথিত দাবিকে কেন্দ্র করে। রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটি (RT)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের সিজারিয়াতে অবস্থিত নেতানিয়াহুর পারিবারিক বাসভবনে ইরানের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক মিসাইল সরাসরি আঘাত হেনেছে।
** রিটারের দাবি অনুযায়ী:-
* হামলায় প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও তার ভাই ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন।
* কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গাভির মারাত্মক আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
* ইসরায়েলের গর্বের ‘আয়রন ডোম’ এই নিখুঁত আক্রমণ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে।
** নেতানিয়াহুর অন্তর্ধান ও ‘এআই’ বিতর্ক:- গুজব ও রহস্য দানা বাঁধার প্রধান কারণ হলো গত ৭ মার্চের পর থেকে নেতানিয়াহুর রহস্যজনক অনুপস্থিতি। এতদিন পার হলেও তাকে কোনো লাইভ ভিডিও বা জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার একটি ছবি প্রকাশ করলেও নেটদুনিয়ায় তা উল্টো বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ছবিটি ‘এআই জেনারেটেড’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। আলোর প্রতিফলন ও সূক্ষ্ম কারিগরি ত্রুটিগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এটি একটি ভুয়া ছবি হতে পারে। প্রশ্ন উঠছে-যদি প্রধানমন্ত্রী জীবিত ও সুস্থই থাকেন, তবে তিনি কেন সশরীরে ক্যামেরার সামনে এসে সব জল্পনার অবসান ঘটাচ্ছেন না?
ইরানের প্রযুক্তির জয় নাকি প্রোপাগান্ডা যুদ্ধ?- ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ স্কট রিটারের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের বরাতে দাবি করছে যে, ইরান এখন ইসরায়েলের ওপর কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই খবর সত্য হয়, তবে এটি হবে আধুনিক যুদ্ধের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ‘সারপ্রাইজ অ্যাটাক’। তবে অনেক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, যেমন চীনের সিনহুয়া, এই খবরকে ‘ভিত্তিহীন গুজব’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ:-
* সর্বশেষ দর্শন:- ৭ মার্চ (বিরশেবা এলাকায় আহতদের দেখতে গিয়েছিলেন)।
* দাবি:- সিজারিয়ার বাসভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মৃত্যু।
* বিপরীত যুক্তি:- ইসরায়েল ও পশ্চিমা গণমাধ্যম বিষয়টিকে গুজব বলছে।
* রহস্যের কেন্দ্র:- নেতানিয়াহুর সশরীরে অনুপস্থিতি ও এআই বিতর্কিত ছবি।
** শেষ কথায় যুদ্ধের রনকৌশল এবং বিশ্ব রাজনীতির পরিস্থিতি এখন কোন দিকে তাকিয়ে?-
মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত সমীকরণে এই গুঞ্জন যদি শেষ পর্যন্ত সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা ইসরায়েল ও আমেরিকার সামরিক দম্ভের জন্য এক বিশাল আঘাত হবে। ইরান কি সত্যিই ইসরায়েলের দুর্ভেদ্য প্রতিরক্ষা ভেঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্মূল করতে পেরেছে, নাকি এটি ইরানের একটি শক্তিশালী মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ-তা সময়ের ব্যবধানেই পরিষ্কার হবে। নিশ্চত চরম সত্যতা প্রমাণের জন্য বিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং নেতানিয়াহুর সশরীরে উপস্থিতির ওপর।

