দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের নারী নেত্রী জেসমিনা খানম চূড়ান্ত লক্ষ্য স্থির করেছেন—এবার সংরক্ষিত মহিলা আসন থেকে জাতীয় সংসদে প্রবেশ করতে চান।
১৯৭১ সালের ১০ মার্চ জন্মগ্রহণ করা জেসমিনা খানম এখন চট্টগ্রামের হালিশহর থানার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের এক পরিচিত মুখ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সামাজিক উন্নয়ন, নারী অধিকার ও রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের প্রথম সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক ক্ষেত্রের পাশাপাশি তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত-১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর (২০১৫-২০১৯) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
জেসমিনা খানমের রাজনৈতিক কর্মসূচি সীমিত নয়। ২০১৮ সালে তিনি ফটিকছড়ি-২ আসনে বিএনপির মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে তার মূল মনোযোগ এখন সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হওয়ার প্রস্তুতি। তিনি মনে করেন, সংসদে প্রবেশের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজ উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
সামাজিক কাজেও জেসমিনা খানমের অবদান ব্যাপক। তিনি নারী ঐক্য বাংলাদেশ (নোবা)-এর সভাপতি হিসেবে নারী কল্যাণ ও সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক)-এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপদেষ্টা এবং চট্টগ্রাম একাডেমীর আজীবন সদস্য। দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে পরিচালিত ‘দি হাঙ্গার’ প্রকল্প এবং ইউনেস্কো ও ইরানের সহযোগিতায় এস.এস.কো প্রকল্প তাঁর সমাজসেবার আলোকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
নারীর ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্ব গঠনের ক্ষেত্রে তিনি দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করেছেন। যুব অধিদপ্তরের ১৫ দিনব্যাপী লিডারশিপ ট্রেনিং, ন্যাশনাল ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের (এনডিআই) নারীর ক্ষমতায়ন কর্মশালা—সবই তাঁকে প্রস্তুত করেছে জাতীয় নেতৃত্বের জন্য।
জেসমিনা খানম বলেন, সংসদে নারীর উপস্থিতি শুধু প্রতিনিধিত্ব নয়, বরং সামাজিক নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে কার্যকর পরিবর্তন আনার সুযোগ। তাই সংরক্ষিত মহিলা আসন থেকে এমপি হওয়ার লক্ষ্য শুধুমাত্র রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়—এটি নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সমাজসেবায় একটি বড় পদক্ষেপ।
চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে প্রমাণ করা জেসমিনা খানমের এই পদক্ষেপ নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের মানুষের নজর রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলে তিনি আশা করছেন, তার সমাজসেবা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাঁকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রাখবে।
নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সমাজ উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় জেসমিনা খানম।
তিনি সমাজসেবী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করে আসছেন, বিশেষত নারী ও শিশুশিক্ষা, মানবাধিকার ও দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সমাজসেবা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় তাকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হওয়ার ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থানে রাখবে।

