বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

হেদায়েতের পথপ্রদর্শক

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক

হযরত জারীর বিন আব্দুল্লাহ আল-বাজালী (রা.) এর এই অসাধারণ ঘটনাটি নবীজী ﷺ-এর একটি সুস্পষ্ট মোজেজা এবং সাহাবীদের বিনয়, আনুগত্য ও দোয়ার বরকতের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এটি সহীহ মুসলিম, রিয়াদুস সালিহীনসহ বিভিন্ন হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
ঘটনার পূর্ণ বিবরণ
হযরত জারীর বিন আব্দুল্লাহ (রা.) ইয়েমেনের বাজালা গোত্রের একজন সম্মানিত নেতা ও অত্যন্ত সুদর্শন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণের পর থেকেই নবীজী ﷺ-এর অত্যন্ত প্রিয় সাহাবী হয়ে ওঠেন। নবীজী ﷺ তাঁর দিকে তাকালেই মুচকি হাসতেন এবং তাঁকে সবসময় সাদরে গ্রহণ করতেন।
নবীজী ﷺ একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের দায়িত্ব দিতে চান হযরত জারীর (রা.)-কে। এটি ছিল ধুল খালাসাহ নামক একটি মূর্তি-মন্দির (যাকে ইয়ামানের কাবা বলা হতো) ভেঙে ফেলার অভিযান। এই মন্দিরটি খাস’আম গোত্রের লোকেরা পূজা করত এবং ইসলামের বিরোধী কাজে ব্যবহার করত।
কিন্তু হযরত জারীর (রা.)-এর একটি সমস্যা ছিল — তিনি ঘোড়ার উপর স্থির হয়ে বসতে পারতেন না। ঘোড়া দৌড়ালে তিনি পড়ে যেতেন। এটি তাঁর জন্য একটি বড় দুর্বলতা ছিল, বিশেষ করে যুদ্ধ-অভিযানের মতো কাজে। তিনি অকপটে এই দুর্বলতার কথা নবীজী ﷺ-এর কাছে স্বীকার করলেন।
নবীজী ﷺ তাঁর মোবারক হাত দিয়ে জারীর (রা.)-এর বুকে সজোরে একটি আঘাত করলেন। এত জোরে যে, জারীর (রা.) বলেন, “আমি আমার বুকে তাঁর হাতের চিহ্ন দেখতে পেলাম।”
তারপর নবীজী ﷺ দোয়া করলেন:
اللَّهُمَّ ثَبِّتْهُ وَاجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا
উচ্চারণ: Allahumma thabbit-hu waj’al-hu haadiyan mahdiyya
অর্থ: “হে আল্লাহ! তাকে (ঘোড়ার উপর) স্থির রাখুন এবং তাকে পথপ্রদর্শক (হাদী) ও সঠিক পথপ্রাপ্ত (মাহদী) বানিয়ে দিন।”
হযরত জারীর (রা.) বলেন:
“এ দোয়ার পর থেকে আমি আর কখনো ঘোড়া থেকে পড়ে যাইনি।”
এরপর তিনি আহমাস গোত্রের ১৫০ জন দক্ষ অশ্বারোহী সৈনিক নিয়ে অভিযানে যান। তারা ধুল খালাসাহ মন্দিরটি ভেঙে ফেলেন, জ্বালিয়ে দেন এবং সফলতার সাথে ফিরে আসেন। নবীজী ﷺ তাদের জন্য দোয়া করেন এবং আহমাস গোত্রের প্রশংসা করেন।
এই ঘটনা থেকে শিক্ষা
– নবীজীর ﷺ মোজেজা: শুধু হাতের স্পর্শ ও দোয়ায় একজন অদক্ষ অশ্বারোহী রাতারাতি দক্ষ অশ্বারোহী হয়ে যান। এটি সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীজীর ﷺ মোজেজা।
– বিনয়ের শক্তি: হযরত জারীর (রা.) সুদর্শন, গোত্রপতি ও সম্মানিত হওয়া সত্ত্বেও নিজের দুর্বলতা লুকাননি, বরং নবীজীর ﷺ কাছে অকপটে স্বীকার করেছেন। এই বিনয়ই তাঁকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।
– দোয়ার বিশালতা: নবীজী ﷺ শুধু শারীরিক সমস্যা (ঘোড়ায় স্থির থাকা) সমাধানের দোয়া করেননি, বরং আধ্যাত্মিক উন্নতির দোয়াও করেছেন — “হাদী ও মাহদী” হওয়ার। পরবর্তী জীবনে জারীর (রা.) সত্যিই একজন সফল দাঈ, বীর সেনানী ও হেদায়েতের পথপ্রদর্শক হয়েছেন।
– আল্লাহর বরকত: নবীজীর ﷺ দোয়া ও হাতের স্পর্শে আল্লাহ যা দেন, তা স্থায়ী ও পরিপূর্ণ হয়।
সূত্র:
– সহীহ মুসলিম (কিতাবু ফাদাইলিস সাহাবা)
– রিয়াদুস সালিহীন
– দালাইলুন নবুওয়্যাহ (আল-বায়হাকী)
– অন্যান্য সীরাত ও হাদীস গ্রন্থ
এই ঘটনা আমাদের শেখায় যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ-এর কাছে বিনয়ের সাথে দুর্বলতা স্বীকার করলে তিনি তা শক্তিতে পরিণত করে দেন। আল্লাহ আমাদের সকলকে নবীজীর ﷺ সুন্নাহ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

প্রতিষ্ঠাতা, ক্যাপশন নিউজ এবং ভিডিও এডিটরঃ মো: রাজিবুল করিম রোমিও, এম, এস, এস (সমাজ কর্ম-রাজশাহী), প্রধান উপদেষ্টাঃ মো: সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মো: মাহিদুল হাসান সরকার, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ মো: আ: হান্নান মিলন, সহকারী সম্পাদকঃ রুবিনা শেখ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: আব্দুল আজিজ, বার্তা সম্পাদকঃ মো: মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন