“ভোট কে দিল, কাকে দিল—সেটাই আসল বিষয় নয়।
আসল বিষয় হলো, ভোট কে গণনা করছে।”
বর্তমান সরকার কি সত্যিই নিরপেক্ষ?
বাস্তবতা হলো—এ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন আছে।
সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এই সরকার ব্যর্থ হয়েছে। একটি বড় রাজনৈতিক দল কার্যত নির্বাচনের বাইরে, আর অন্যদিকে একটি নির্দিষ্ট দল ও নতুন রাজনৈতিক শক্তিকে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমন বাস্তবতায় নির্বাচন কতটা অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য—সে প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে।
যদিও এবার নৌকা প্রতীক নেই, তবুও সরকারের অবস্থান যেন দুই নৌকায় পা দিয়ে রাখা। যে দলটি কখনোই সরাসরি ক্ষমতায় যেতে পারেনি, তাদের প্রতি বিশেষ ছাড় ও সহানুভূতির ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি একটি নতুন গঠিত রাজনৈতিক দলের জন্য বিভিন্ন কৌশল ও পথনকশা তৈরি করা হচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন।
এই প্রেক্ষাপটে বলা যায়—প্ল্যান ‘এ’- সেই দলটিকে ক্ষমতায় আনার চেষ্টা।
২৪-এর আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ, সময় নির্বাচন, কৌশল ও সিদ্ধান্তগুলো অনেকের চোখে ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত (meticulous design)। হঠাৎ কিছু ঘটেছে—এমনটা বিশ্বাস করা কঠিন।
নির্বাচনের এখনও সময় বাকি। সামনে আরও নানা ঘটনা ঘটতে পারে—
মনোনয়ন বাতিল, মামলা, প্রশাসনিক চাপ—এসব আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অতীত অভিজ্ঞতা মানুষকে সতর্ক থাকতে শেখায়।
তবে এখানে আরেকটি সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে—
প্ল্যান ‘বি’।
যদি বড় দলটি নির্বাচনে জিতে যায়, সেক্ষেত্রে “হ্যাঁ ভোট” বা আনুষ্ঠানিক সমর্থনের মাধ্যমে এই সরকারের একটি নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন প্রস্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা হতে পারে। কারণ অনেকের দৃষ্টিতে এই সরকার ছিল অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে দুর্বল—এবং সেই মূল্যায়ন ইতিহাসই করবে।
আর যে বড় দলটির দিকে জনসমর্থনের ঢল বলে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের জন্যও সতর্ক থাকার কারণ আছে। ক্ষমতায় যাওয়া যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো—
কোন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া হচ্ছে।
কারণ meticulous design এখনো চলমান থাকতে পারে, আর রাজনীতিতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চিত্র বদলাতেও সময় লাগে না।
সবশেষে এটুকুই বলা যায়—
ভালো থাকুক বাংলাদেশ।
আমাদের রাজনৈতিক মত ভিন্ন হতে পারে, বিশ্লেষণ আলাদা হতে পারে—
কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষ,
এই দেশটাকে—ভালোবাসি একটু বেশি। 🇧🇩
