রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

মহাপ্লাবনের গর্জন ও নুহের কিশতি

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক

মরুভূমির তপ্ত বালুকা বেলায় এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখে কাফেররা অট্টহাসিতে মেটে উঠল। তারা দেখল, তাদের বৃদ্ধ নবী হযরত নুহ (আঃ) এবং তাঁর অল্প কয়েকজন অনুসারী মিলে একটি বিশাল কাঠের নৌকা তৈরি করছেন। চারপাশে নেই কোনো সমুদ্র, নেই কোনো নদী।
১. ৯৫০ বছরের ধৈর্য ও কাফেরদের উপহাস
দীর্ঘ ৯৫০ বছর ধরে নুহ (আঃ) তাঁর জাতিকে এক আল্লাহর পথে ডেকেছেন। বিনিময়ে পেয়েছেন অপমান, পাথর আর লাঞ্ছনা। অবশেষে যখন তাদের পাপাচার সব সীমা ছাড়িয়ে গেল, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে নৌকা তৈরির নির্দেশ এল। নুহ (আঃ) যখন কাঠে পেরেক ঠুকতেন, কাফেররা পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ঠাট্টা করে বলত, “হে নুহ! তুমি কি তবে নবী থেকে এখন কাঠমিস্ত্রি হয়ে গেলে? তোমার এই নৌকা মরুভূমির ধুলোয় চলবে নাকি?” নুহ (আঃ) শান্তভাবে উত্তর দিতেন, “আজ তোমরা হাসছ, কিন্তু যেদিন আকাশ ফেটে পানি পড়বে, সেদিন আমরাই হাসব।”
২. আকাশ ও মাটির মহাবিদ্রোহ
অবশেষে সেই দিন এল। আল্লাহর নির্দেশে নুহ (আঃ) প্রতিটি প্রাণীর এক এক জোড়া এবং মুমিনদের নৌকায় তুলে নিলেন। হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে গেল। মুষলধারে বৃষ্টি নয়, যেন আসমান থেকে পানির পাহাড় নামতে শুরু করল। ওদিকে মাটির বুক ফুঁড়ে তপ্ত ফোয়ারার মতো পানি বের হতে লাগল। মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি, গাছপালা সব তলিয়ে গেল। নুহ (আঃ)-এর বিশাল নৌকাটি পাহাড়সম ঢেউয়ের ওপর ভাসতে শুরু করল।
৩. পাহাড় ও পুত্রের ট্র্যাজেডি
এই প্লাবনের মাঝে নুহ (আঃ) দেখলেন তাঁর সন্তান কানআন পানির তোড়ে ভেসে যাচ্ছে। পিতা হিসেবে তাঁর মন ডুকরে কেঁদে উঠল। তিনি চিৎকার করে বললেন, “হে আমার প্রিয় বৎস! আমাদের নৌকায় উঠে এসো, কাফেরদের সাথে থেকো না!”
কিন্তু অহংকারী সন্তান উত্তর দিল, “আমি কোনো উঁচু পাহাড়ে আশ্রয় নেব, যা আমাকে পানি থেকে রক্ষা করবে।” নুহ (আঃ) ব্যথিত কণ্ঠে বললেন, “আজ আল্লাহর হুকুম ছাড়া রক্ষা করার মতো কোনো পাহাড় নেই।” কথাটি শেষ হওয়ার আগেই এক বিশাল ঢেউ এসে পিতা ও পুত্রের মাঝখানে দেয়াল হয়ে দাঁড়াল। নবীর সন্তান হওয়া সত্ত্বেও ঈমান না থাকায় সে চিরতরে হারিয়ে গেল উত্তাল লোনাজলে।
৪. নতুন পৃথিবীর শুরু: জুদি পাহাড়
টানা কয়েক মাস প্রলয় চলার পর আল্লাহর আদেশ এল— “হে পৃথিবী, তোমার পানি শুষে নাও! হে আকাশ, ক্ষান্ত হও!” ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করল। নুহ (আঃ)-এর সেই মহাবিস্ময়কর কিশতিটি গিয়ে ভিড়ল ‘জুদি’ পাহাড়ের চূড়ায়। পৃথিবী থেকে পাপাচারী জালিমরা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। নৌকা থেকে নেমে নুহ (আঃ) এবং তাঁর মুমিন সঙ্গীরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন। সেই মুষ্টিমেয় ঈমানদারদের মাধ্যমেই পৃথিবীতে আবার নতুন করে প্রাণের স্পন্দন শুরু হলো।
গল্পের শিক্ষা:
বংশ পরিচয় বনাম ঈমান: নবীর সন্তান হয়েও কানআন বাঁচতে পারেনি, কারণ তার ঈমান ছিল না। আল্লাহর কাছে রক্ত বা বংশ নয়, বরং বিশ্বাসের মূল্যই সবার উপরে।
ধৈর্যের ফল: ৯৫০ বছর উপহাস সয়েও নুহ (আঃ) সত্যের পথ ছাড়েননি। আল্লাহ শেষ পর্যন্ত সত্যবাদীদেরই বিজয়ী করেন।
আল্লাহর প্রতিরক্ষা: সারা পৃথিবী ডুবে গেলেও আল্লাহ যাঁকে রক্ষা করতে চান, সামান্য কাঠের নৌকাও তাঁর জন্য হিমালয়ের চেয়ে শক্ত দুর্গ হয়ে যায়।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার, উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম), নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন