দুই যুগ পুরো করল চিরকুট। এই দুই যুগে ব্যান্ডটি বাংলা গানের ভান্ডারে যোগ করেছে ‘আহা রে জীবন’, ‘কানামাছি’, ‘মরে যাব’, ‘বন্ধু গো’, ‘কাটাকুটি’, ‘উধাও’, ‘একটা ছেঁড়া দিন’, ‘জাদুর শহর’, ‘দুনিয়া’, ‘এই শহরের কাকটাও জেনে গেছে’, ‘খাজনা’র মতো বেশ কয়েকটি আলোচিত গান। পেয়েছে দেশি-বিদেশি পুরস্কার ও সম্মাননা।
নতুন বছরও স্বীকৃতি দিয়ে শুরু হয়েছে। ৯ জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত ঢালিউড ফিল্ম অ্যান্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডের ২৫তম আসরে তৃতীয়বারের মতো সেরা ব্যান্ডের স্বীকৃতি পেয়েছে চিরকুট। গত বছর প্রকাশিত ব্যান্ডের ভালোবাসা সমগ্র অ্যালবামের ‘দামি’ গানের জন্য এই পুরস্কার পায় তারা। এর আগে ৩ জানুয়ারি সিলেটে কনসার্ট দিয়ে নতুন বছর শুরু করে চিরকুট।
২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা সুমী, রাশিদ শরীফ শোয়েব ও পারভেজ সাজ্জাদ—এই তিনজন মিলে শুরু করেন চিরকুট। এরপর দুই যুগের পথচলায় অনেকে চলে গেছেন, অনেকে যুক্ত হয়েছেন। এই আসা-যাওয়ার মধ্যে একজনই এখনো দলটাকে আগলে রেখেছেন—তিনি সুমী।
কেন এই যাওয়া-আসা, জানতে চাইলে সুমী বলেন, ‘আসলে একটা ব্যান্ডে সবার মতাদর্শ সমান হয় না। অনেকে আসছেন, অনেকে চলে গেছেন। আগামীতেও অনেকে আসবেন। যত দিনই থেকেছেন, সবাই পরিবারের মতো থেকেছেন। শুরু থেকেই চিরকুট মিউজিশিয়ানের জন্য একটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। শুধু মিউজিকই নয়, জীবনাচরণ, আইডিয়া, মূল্যবোধের সমন্বয়ে কীভাবে এগিয়ে যাওয়া যায়, এখানে তার চর্চা করা হয়।’
সব সময় নতুন গান, নতুন কথা ও সুর খুঁজেছে চিরকুট, জানালেন সুমী। একটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বছরের পর বছর সদস্যদের পাশে থেকে তাঁদের এগিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে। সুমী বললেন, ‘চিরকুট বরাবরই মিউজিকে নতুন কিছু যুক্ত করার নিরীক্ষা করেছে। এর ফলেই অনেক মিউজিশিয়ানের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে চিরকুট।’
নতুন বছরে নিজেদের পঞ্চম অ্যালবাম তৈরিতে মনোনিবেশ করেছে চিরকুট। নতুন ১২টি গানের কাজ চলছে। বছরজুড়ে দেশে ও বিদেশে নিয়মিত কনসার্টেও যুক্ত থাকবে তারা। আগামী বছর বর্ণাঢ্য আয়োজনে চিরকুটের ২৫ বছর পূর্তি উদ্যাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সুমী বললেন, ‘অ্যালবামের কাজের বাইরে কয়েকটি একক গানও শ্রোতারা পাবেন।
