মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

দাওয়াতের শেষ শিক্ষা

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক

হযরত ফাতেমা (রাঃ) তাঁর বোন কুলসুম এবং ক্ষুধার্ত সন্তান হাসান ও হোসেনকে নিয়ে যখন কুলসুমের বাড়িতে পৌঁছালেন, তখন নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
মা ফাতেমা (রাঃ) বিনয়ের সাথে নবীজিকে সালাম দিলেন: “হে আমার পিতা, আমার সালাম গ্রহণ করুন।”
মহানবী (সাঃ) উষ্ণতার সাথে উত্তর দিলেন: “মা ফাতেমা! তুমি এসেছো, আমি তোমার অপেক্ষায় ছিলাম।”
ফাতেমা (রাঃ) বললেন, “হ্যাঁ বাবা, আমি এসেছি। কুলসুম আমাকে ডেকে নিয়ে আসলো।”
নবীজির ব্যাখ্যা ও কারণ
নবী করীম (সাঃ) তখন তাঁর দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ের কথা প্রকাশ করলেন: “মা, তোমার বোন একটি বড় ভুল করে ফেলেছে। আমি নিজেও জানি, তার এই কাজটি করা ঠিক হয়নি। তোমার এই দুঃখ-কষ্টে মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীনও ব্যথিত হয়েছেন।”
তিনি বললেন, কুলসুম অহংকারের বশে তোমাকে আমন্ত্রণ না করে একটি পাপ করেছে। আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীন তোমার এবং তোমার মাসুম সন্তান হাসান ও হোসেনের ক্ষুধার জ্বালায় তোমার আহাজারি শুনেছেন—যা আল্লাহর আরশকে কাঁপিয়ে দিয়েছে।
নবীজি (সাঃ) এরপর খাবারের অলৌকিক পরিবর্তনের কথা ফাতেমা (রাঃ)-কে জানালেন: “আজকের মেজবানের জন্য যে সকল খাবার রান্না করা হয়েছিল, আল্লাহর হুকুমে সব খাবার কয়লায় পরিণত হয়ে গেছে।”
ফাতেমা (রাঃ) অবাক হয়ে গেলেন। তিনি বললেন: “আমি তো কখনো আমার বোনকে অভিশাপ দিইনি, এমনটি কেন হলো?”
নবী করীম (সাঃ) বললেন: “তোমাকে অভিশাপ দেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি, মা। হাসান-হোসেনের ক্ষুধার জ্বালা এবং তোমার আহাজারিই যথেষ্ট ছিল।”
তিনি আরও বললেন, “তোমার বোন চিন্তায় ভেঙে পড়েছে। এত সব আমন্ত্রিত অতিথিদের যদি সে খাবার দিতে না পারে, তাহলে তার মান-সম্মান কিছুই থাকবে না।”
ফাতেমার সমাধান ও দোয়া
মা ফাতেমা (রাঃ) তখন তাঁর পিতার কাছে জানতে চাইলেন: “হে আল্লাহ্‌র প্রেরিত রাসূল, হে আমার পিতা! এখন আমার কী করা উচিত?”
নবী করীম (সাঃ) বললেন: “তুমি যদি মন থেকে কুলসুমকে ক্ষমা করো এবং আল্লাহর দরবারে দোয়া করো, তবে আল্লাহ অবশ্যই সমাধান করে দিবেন।”
মা ফাতেমা (রাঃ) তৎক্ষণাৎ রাজি হয়ে বললেন: “ঠিক আছে বাবা, আমি যাচ্ছি।”
কুলসুমকে নিয়ে তিনি সেখানে গেলেন, যেখানে সেই কয়লায় পরিণত হওয়া খাবারের পাত্রগুলো রাখা ছিল। আল্লাহর নাম নিয়ে, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে মা ফাতেমা (রাঃ) সকল খাবারের পাত্রগুলো একটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলেন।
এরপর তিনি আল্লাহর দরবারে আন্তরিকভাবে দোয়া করলেন। দোয়া শেষে তিনি কুলসুমকে বললেন, “তুমি কাপড়ের আবরণ তোলো।”
কুলসুম যখন সেই কাপড় সরালেন, তখন দেখলেন—আলহামদুলিল্লাহ! কয়লায় পরিণত হওয়া সকল খাবার আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে! সেগুলো যেন আরও সুস্বাদু এবং তাজা হয়ে গেছে।
কুলসুম আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করলেন, এবং মা ফাতেমা (রাঃ)-ও আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা জানালেন। এরপর সেই খাবার সবাই তৃপ্তিসহকারে খেলেন।
শিক্ষা:
সম্পদের অহংকার করে গরীব আত্মীয়কে অবজ্ঞা করা আল্লাহর কাছে জঘন্য অপরাধ। আল্লাহ্‌র কাছে কোনো বান্দার আহাজারি বা অসহায়তা এত মূল্যবান যে, তা আলৌকিকভাবে পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। আর আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের ক্ষমা এবং দোয়ার মাধ্যমেই কঠিনতম বিপদ থেকে মুক্তি লাভ করা যায়।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম), নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন