একদা হযরত ঈসা (আঃ) একটি প্রাচীন কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আল্লাহর হুকুমে তিনি তাঁর হাতের লাঠি দিয়ে একটি কবরে আঘাত করলেন এবং মৃত ব্যক্তিকে জীবিত হওয়ার নির্দেশ দিলেন। মুহূর্তের মধ্যে কবরের মাটি ফেটে এক ব্যক্তি ধুলোবালি ঝেড়ে উঠে দাঁড়াল।
হযরত ঈসা (আঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর বান্দা! দুনিয়াতে তোমার জীবন কেমন ছিল? তুমি কী কাজ করতে?”
লোকটি বিনীতভাবে উত্তর দিল, “হে আল্লাহর নবী! আমি এক সাধারণ কুলি ছিলাম। মানুষের ভারি বোঝা মাথায় বয়ে বেড়াতাম এবং তা থেকে যা মজুরি পেতাম, তা দিয়েই আমার সংসার চলত। আমি কখনো কোনো বড় পাপ করিনি।”
১. কবরের সেই ভয়াবহ জবানবন্দি
হযরত ঈসা (আঃ) তখন জানতে চাইলেন, “তবে কবরের ভেতরে তোমার দিনকাল কেমন কাটছে? তোমার হিসাব-নিকাশ কি শেষ হয়েছে?”
একথা শুনে লোকটি ডুকরে কেঁদে উঠল। সে বলল:
“হে নবী! আমার হিসাব আজও শেষ হয়নি। আমি দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে কবরে আটকে আছি একটি মাত্র খড়কুটোর হিসাব দিতে গিয়ে! একবার আমি এক ব্যক্তির জ্বালানি কাঠের বোঝা মাথায় করে পৌঁছে দিচ্ছিলাম। পথ চলতে চলতে আমার দাঁতের ফাঁকে এক টুকরো খাবার আটকে যায়। আমি তখন মালিকের অনুমতি না নিয়েই ওই বোঝা থেকে একটি অতি ক্ষুদ্র কাঠি ভেঙে নিয়ে দাঁত খিলাল করেছিলাম।”
২. অণু পরিমাণ হকের বিচার
লোকটি আরও বলতে লাগল, “মৃত্যুর পর আল্লাহ আমাকে জিজ্ঞেস করলেন— ‘হে বান্দা! তুমি কি জানতে না যে এই কাঠের প্রতিটি অংশ তার মালিকের হক? তুমি কেন তার বিনানুমতিতে একটি ছোট কাঠি ভেঙে নষ্ট করলে?’ হে আল্লাহর নবী! সেই একটি ছোট কাঠির হিসাব আজ ৪০ বছর ধরে দিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু আজও মুক্তি মেলেনি। দয়া করে আপনি আমার জন্য সুপারিশ করুন!”
হযরত ঈসা (আঃ) স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। তিনি উপলব্ধি করলেন, যে বিষয়টিকে আমরা অতি তুচ্ছ বা সামান্য মনে করি, আল্লাহর আদালতে তার গুরুত্ব কত অপরিসীম!
গল্পের শিক্ষা:
হক্কুল ইবাদ (মানুষের হক): মানুষের হক নষ্ট করা সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। নামাজ-রোজার ভুল হয়তো আল্লাহ দয়া করে মাফ করতে পারেন, কিন্তু মানুষের পাওনা বা হক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মাফ না করলে আল্লাহ তা মাফ করেন না।
ক্ষুদ্রতা বনাম আমানত: অন্যের একটি কলম, একটি কাঠি বা সামান্য এক টাকার পাওনাকেও তুচ্ছ ভাবা উচিত নয়। আমানতের খেয়ানত ছোট হোক বা বড়—হিসাব দিতেই হবে।
