শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা-১৮ আসনে যাঁর নাম উচ্চারিত হলে রাজপথের লড়াই

আরিফুল ইসলাম

ঢাকা-১৮ আসনে যাঁর নাম উচ্চারিত হলে রাজপথের লড়াই, সংগঠনের শৃঙ্খলা আর নির্যাতনের মধ্যেও টিকে থাকার দৃঢ়তা- সবকিছু একসাথে মনে পড়ে, তিনি আরিফুল ইসলাম আদীব।

বরিশালের সন্তান আরিফুল ইসলাম রাজনীতিতে ধূমকেতু হয়ে আসেননি, তিনি এসেছেন আন্দোলনের বন্ধুর পথ মাড়িয়ে, বিভিন্ন সংগঠনের নানা স্তরের কাজের ভেতর দিয়ে, আর একের পর এক প্রতিকূলতার মাঝখান দিয়ে নিজেকে একজন পরীক্ষিত যোদ্ধা হিসেবে দাঁড় করিয়ে।

বর্তমানে আরিফুল ইসলাম জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতোপূর্বে এনসিপির রাজনৈতিক লিয়াঁজো কমিটির প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

রাজপথের আন্দোলন থেকে সংগঠনের পথে যাত্রা

আরিফুল ইসলামের রাজনৈতিক পথচলার শুরু ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে। সেই আন্দোলনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখায় সাংগঠনিক কাজের হাতেখড়ি তখনই। পরের বছর, ২০১৯ সালে, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ আন্দোলনে তিনি ছিলেন অন্যতম সংগঠক, যে আন্দোলন ক্যাম্পাসে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, স্পষ্ট করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর জিরো টলারেন্স নীতিকেও।

সংগঠক হিসেবে আরিফুল ইসলামের ভূমিকা শুধু আন্দোলনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালে তিনি রাজনৈতিক দল গণঅধিকার পরিষদের ঘোষণাপত্র প্রণয়ন কমিটির সদস্য ছিলেন, যুক্ত ছিলেন দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন সংগঠক হিসেবেও।

২০২৩ সালে ১৬টি ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্যের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২৪ সালে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনের বিরুদ্ধে সংগঠিত ঐতিহাসিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লিয়াঁজো কমিটির সদস্য হিসেবেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং নেতৃত্ব- রাজনীতির ময়দানের অতি গুরুত্বপূর্ণ এই তিন জায়গাতেই নিরলস ও কার্যকরভাবে তিনি কাজ করে গেছেন গত অর্ধযুগেরও বেশি সময় ধরে।

শত নির্যাতনেও হাল না ছাড়ার গল্প

রাজপথের লড়াকু ও পরীক্ষীত সৈনিক আরিফুল ইসলাম একাধিকবার আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

২০১৯ সালে ডাকসু ভবনে ছাত্রলীগের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। আঘাত এতটাই মারাত্মক ছিল যে কিডনি ডায়ালাইসিস করতে হয় তাঁর, গুরুতর জখম হয় চোখেও।

২০১৯ থেকে ২০২৪- এই পাঁচ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন জেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের একাধিক হামলা ও নির্যাতনের শিকার হন তিনি।

জীবনে চলার পথে এতসব প্রলয়ঙ্কারী ঝড়ের মুখোমুখি হয়েও তিনি থমকে যাননি, বরং রাজনৈতিক জীবনের ক্রমাগত নির্যাতন-নিপীড়নই তাঁকে আজকের দক্ষ নেতা হিসেবে গড়ে তুলেছে।

পেশাগত জীবন

রাজনীতির বাইরে আরিফুল ইসলামের একটি পেশাগত পরিচয়ও আছে। তিনি যুক্ত আছেন সাংবাদিকতার সঙ্গে। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় ফ্রিল্যান্স লেখক হিসেবে কাজ করেছেন। ২০২০ সালের পর থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট এবং মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট হিসেবে কাজ করছেন তিনি।

পরিবার ও শিক্ষাজীবন

আরিফুল ইসলামের বাবা একজন শিক্ষক, চাকরি করছেন একটি ফাজিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ হিসেবে, আর মা গৃহিণী। ২০১১ সালে বাঘিয়া আল আমিন কামিল মাদ্রাসা থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর ভর্তি হন ঝালকাঠি এনএস কামিল মাদ্রাসায়, এবং ২০১৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চশিক্ষার্থে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হন। ২০১৮ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি।

পরিবার থেকে পাওয়া নৈতিক শিক্ষা, রাজপথের আন্দোলন আর বিভিন্ন সংগঠন পরিচালনার মাধ্যমে অর্জিত রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ফ্যাসিবাদের দোসরদের নির্যাতনের শিকার হয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিতের সুদৃঢ় চেতনা, এবং সাংবাদিকতায় যুক্ত থেকে জনগণের আরও কাছে এসে তাদের সমস্যাগুলো বুঝতে পারা, সেগুলো সকলের সামনে তুলে ধরে সমাধানের চেষ্টা করা- সব মিলিয়ে আরিফুল ইসলাম আদীবের জীবন যেন একটিই বার্তা দেয়: রাজনীতির ময়দানে দীর্ঘদিনের লড়াকু সৈনিক হিসেবে থাকতেই এসেছেন তিনি, নিয়েছেন গণমানুষের অধিকার আদায়ের মহান ব্রত, যে ব্রত লালন করে এই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও জনগণের সেবা করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।

সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি-র পক্ষে শাপলা কলি প্রতীকে ঢাকা ১৮ আসনে লড়বেন আরিফুল ইসলাম আদীব। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রেখে ঢাকা ১৮ আসনের বাসিন্দাদের জন্য একটি নিরাপদ, নিশ্চিন্ত, সম্ভাবনাময় নাগরিক জীবন নিশ্চিত করতেই নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম), নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন