বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

১৩ ডিসেম্বর ‎ঐতিহাসিক তাড়াশ হানাদার মুক্ত দিবস

‎খালিদ হাসান, স্টাফ রিপোর্টারঃ

‎আজ ১৩ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল ও ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে তাড়াশ ও এর আশপাশের এলাকা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয়। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তাড়াশ শত্রুমুক্ত ঘোষণা করা হয়।
‎
‎এর আগে ১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বর তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ এলাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় যুদ্ধকালীন গেরিলা সংগঠন পলাশডাঙ্গা যুবশিবিরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এক সম্মুখ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ওই যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী ভয়াবহভাবে পরাজিত হয়।
‎
‎চলনবিল অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এই প্রতিরোধযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন পলাশডাঙ্গা যুবশিবিরের সর্বাধিনায়ক প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মির্জা এবং সহ-সর্বাধিনায়ক প্রয়াত গাজী এম. এম. আমজাদ হোসেন মিলন।
‎
‎নওগাঁর সেই ঐতিহাসিক যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা অভিযানে প্রায় ১৩০ জন পাকিস্তানি হানাদার ও রাজাকার বাহিনীর সদস্য নিহত হয়। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ মুক্তিযোদ্ধাদের হস্তগত হয়। এ সময় বেলুচ রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন সেলিমসহ ৯ জন পাকিস্তানি সেনা জীবিত অবস্থায় আটক হয়।
‎
‎স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ১১ নভেম্বর ১৯৭১ চলনবিলের প্রাণকেন্দ্র অলিয়ে কামেল হজরত শাহ শরিফ জিন্দানী (রহ.)-এর মাজার এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যে ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়, তা উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত।
‎
‎এই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ১৩ নভেম্বর তাড়াশ উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। এতে দৈনিক আজাদের সাংবাদিক ও শিক্ষক ইয়ার মোহাম্মদসহ ১৩ জন নিরীহ গ্রামবাসী শহীদ হন।
‎
‎অবশেষে পলাশডাঙ্গা যুবশিবিরের মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার ফলে ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা ও জনতা তাড়াশ এলাকা সম্পূর্ণরূপে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করেন। এদিন তাড়াশজুড়ে বিজয়ের আনন্দে মানুষ উৎসবে মেতে ওঠে এবং উত্তোলন করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার, উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম-রাজশাহী), সহ-সম্পাদকঃ রুবিনা শেখ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন