এমসি বাজারের ব্যস্ত দিন। এটিএম বুথের সামনে দীর্ঘ লাইন। সেই লাইনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এক বৃদ্ধা, যার কাছে কার্ড আছে কিন্তু প্রযুক্তির মারপ্যাঁচে পিন নম্বর চেপে টাকা তোলার সাহস নেই। তিনি সবসময়ই কারো না কারো সাহায্য নিয়ে টাকা তোলেন। কিন্তু এবারের সাহায্যকারী ছিল এক ভয়ংকর বহুরূপী।
রহস্যের শুরু: একটি শূন্য ব্যালেন্স। বৃদ্ধা যখন সাহায্যের জন্য এক যুবকের হাতে কার্ডটি তুলে দিলেন, তখন কেউ ভাবতেও পারেনি পর্দার আড়ালে কী ঘটছে। যুবকটি নিপুণ হাতে পিন টাইপ করল ঠিকই, কিন্তু টাকা উত্তোলনের বদলে সে ব্যবহার করল ফান্ড ট্রান্সফার অপশন। বৃদ্ধার অজান্তেই মুহূর্তের মধ্যে টাকাগুলো চলে গেল একটি বিকাশ এজেন্টের নম্বরে। যুবকটি শান্ত মুখে কার্ডটি ফেরত দিয়ে বলল, খালা আপনার কার্ডে তো কোনো টাকাই নেই!
মুহূর্তের মোড়: বৃদ্ধার আর্তনাদ ও নাটকীয় ধরা। একজন সাধারণ মানুষের কাছে টাকা নেই শোনাটা কষ্টের, কিন্তু এই বৃদ্ধার কাছে তা ছিল অবিশ্বাস্য। তার সহজাত সন্দেহে তিনি চিৎকার শুরু করতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। বাজারের স্থানীয় জনতা ও কৌতূহলী পথচারীরা মুহূর্তেই বুথ ঘিরে ফেলে। পালিয়ে যাওয়ার পথ না পেয়ে ধরা পড়ে যায় সেই সহজ সরল যুবক।
পকেটে মিলল রহস্যময় মাস্টার কি!
জনতা যখন প্রতারককে আটকে তল্লাশি চালায়, তখন বেরিয়ে আসে আসল রহস্য। তার কাছে পাওয়া যায় একটি নষ্ট এটিএম কার্ড। ধারণা করা হচ্ছে, বৃদ্ধার আসল কার্ডটি বদলে এই নষ্ট কার্ডটি তার হাতে ধরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু সময়ের অভাবে বা বৃদ্ধার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সে ধরা পড়ে যায়।
এমসি বাজারের এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়:
* অচেনা মানুষকে কি পিন নম্বর বলা নিরাপদ?
* সহায়তার আড়ালে ওত পেতে থাকা এই ডিজিটাল পকেটমার’রা আসলে কতটা সংঘবদ্ধ?

