বাংলাদেশের বৃহত্তম জলাভূমি চলনবিল–এর বুক চিরে সিরাজগঞ্জ থেকে সোজা রাজশাহী পর্যন্ত সরাসরি রেল সংযোগ স্থাপন এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের পাশ দিয়ে রাজশাহীর সঙ্গে নতুন রেলপথ নির্মাণের জন্য স্থানীয় জনসাধারণ দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে।
বর্তমানে এই অঞ্চলের জনগণের যাতায়াতের একমাত্র নির্ভরযোগ্য পথ হলো সিরাজগঞ্জ–নাটোর–বনপাড়া হয়ে রাজশাহী যা প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহনে পরিপূর্ণ থাকে। এ সড়কে চলাচলজনিত ভিড়, সময় নষ্ট ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। ফলে চলনবিল অঞ্চলের অর্থনীতি, শিক্ষা, কৃষি ও পর্যটন উন্নয়নে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সিরাজগঞ্জের দবিরগঞ্জ, মান্নাননগর, কাছিকাটা ও বনপাড়া হয়ে নাটোর পর্যন্ত এবং সেখান থেকে সোজা রাজশাহী পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপন করলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটবে। এতে একদিকে যেমন রাজধানীর সঙ্গে রাজশাহী বিভাগের সংযোগ আরও দ্রুত হবে, তেমনি চলনবিল এলাকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও বিকশিত হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, এ রেললাইন বাস্তবায়িত হলে কৃষিপণ্য, মাছ, দুধ ও স্থানীয় পণ্য দ্রুত বড় শহরে পৌঁছাতে পারবে, ফলে চলনবিল হবে এক নতুন অর্থনৈতিক করিডর। পাশাপাশি এই অঞ্চলে পর্যটন, ব্যবসা ও শিল্পকারখানার বিকাশ ঘটবে।
এ বিষয়ে চলনবিলবাসীর পক্ষ থেকে এস এম শিমুল বলেন,“সিরাজগঞ্জ থেকে রাজশাহী পর্যন্ত রেল সংযোগ কেবল একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি আমাদের জীবনের প্রয়োজন। এই রেললাইন বাস্তবায়ন হলে চলনবিলের মানুষ পাবে স্বপ্নের যোগাযোগ ব্যবস্থার স্পর্শ।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর আহ্বান, আগামী নির্বাচিত সরকার যেন জনগণের এই ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।
“সিরাজগঞ্জ–রাজশাহী রেল সংযোগ শুধু চলনবিল নয়, বরং পুরো উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
জনস্বার্থে ও দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্যের স্বার্থে রেল সংযোগ প্রকল্পটি এখন সময়ের দাবি।

