বগুড়া জেলা মহিলা দলের রাজনীতিতে সাহস, ত্যাগ, নিষ্ঠা ও নেতৃত্বগুণের উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি হিসেবে যিনি সমধিক পরিচিত, তিনি হলেন নিহার সুলতানা তিথি। তিনি কেবল একজন নেত্রী নন, বরং বগুড়ার নারী সমাজের অনুপ্রেরণার নাম। দৃঢ় বিশ্বাস, অটল আদর্শ ও সংগঠনের প্রতি অগাধ ভালোবাসা দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।
সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজের ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি হিসেবে ছাত্র রাজনীতির সূচনালগ্ন থেকেই তিনি প্রমাণ করেছেন নিজের নেতৃত্বের দৃঢ়তা। শিক্ষাজীবনেই সংগঠনের প্রতি তার ভালোবাসা ও নিষ্ঠা তাকে এনে দেয় ছাত্রনেত্রীর মর্যাদা। পরবর্তীতে তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা মহিলা দলের পরপর দুইবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাফল্যের সাথে। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় তিথি হয়ে উঠেছেন ত্যাগী, পরিশ্রমী ও সাহসী নেতৃত্বের প্রতীক।
বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের প্রতিটি আন্দোলন, কর্মসূচি ও মানবিক উদ্যোগে নিহার সুলতানা তিথি ছিলেন সবসময় সামনের কাতারে। রাজনৈতিক ঝড়ঝাপটা কিংবা প্রতিকূল পরিস্থিতি কখনোই তাকে থামাতে পারেনি। দল যখন দুঃসময়ে, তখনও তিনি রাজপথে থেকেছেন কর্মীদের পাশে। তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামতের কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি ছিলেন প্রথম সারির সক্রিয় নেতৃত্বের একজন। নিজ হাতে লিফলেট বিতরণ থেকে শুরু করে সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ—সব ক্ষেত্রেই তার ভূমিকা প্রশংসনীয়।
তিনি বিশ্বাস করেন, সংগঠনের শক্তি গড়ে ওঠে তৃণমূল নেত্রীদের মধ্য দিয়ে। তাই তিনি বগুড়া জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় মহিলা দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। তার নেতৃত্বে জেলা মহিলা দল এখন অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ, সচেতন ও কর্মক্ষম। তৃণমূল পর্যায়ের নেত্রী ও কর্মীদের মধ্যে তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অনন্য।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও অগ্রগামী। অসহায়, দরিদ্র ও বঞ্চিত নারীদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের স্বাবলম্বী করে তোলা, শিক্ষা বিস্তার এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে তার কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য। তার উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা বগুড়া জেলার নারী উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তার রাজনৈতিক দর্শন সুস্পষ্ট—তিনি বিশ্বাস করেন, “নারীর নেতৃত্ব মানেই সমাজের উন্নয়ন।” এই বিশ্বাস থেকেই তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন নারীদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে, তাদের কণ্ঠস্বরকে শোনা যায় এমন জায়গায় পৌঁছে দিতে। তার চিন্তাধারায় দলীয় রাজনীতি মানে কেবল ক্ষমতা নয়, বরং জনগণের কল্যাণে কাজ করা, দলীয় কর্মীদের পাশে থাকা এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।
দলীয় কর্মীদের প্রতি তার আন্তরিকতা ও সহযোগিতা তাকে করেছে সবার প্রিয় নেত্রী। সংগঠনের ছোট-বড় প্রতিটি কর্মীর সুখ-দুঃখে তিনি পাশে দাঁড়ান, তাদের উৎসাহ দেন, সাহস জোগান। রাজনীতির ময়দানে তার এই মানবিক ও নিবেদিতচেতা ভূমিকা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
বর্তমান প্রজন্মের কাছে নিহার সুলতানা তিথি এক রোল মডেল। তার জীবন, সংগ্রাম ও সাফল্য প্রমাণ করে—নারীও নেতৃত্ব দিতে পারে দৃঢ়ভাবে, সৎভাবে এবং সাহসিকতার সঙ্গে। রাজনীতির অঙ্গনে তার অবস্থান আজ বগুড়া জেলা মহিলা দলের জন্য গর্বের বিষয়।
আগামী দিনে তৃণমূল থেকে জেলা পর্যন্ত মহিলা দলকে আরও শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও গতিশীল করতে তিনি যে স্বপ্ন বুনছেন, তা-ই বগুড়ার নারীদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। তিনি আগামী দিনের স্বপ্ন স্রষ্টা, যার নেতৃত্বে বগুড়া জেলা মহিলা দল এগিয়ে যাবে নতুন দিগন্তের পথে।
বগুড়ার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আজ যে নামটি উচ্চারণ করলে নেতৃত্ব, সাহস, ত্যাগ আর ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে, সেটি হলো নিহার সুলতানা তিথি — এক সংগ্রামী, সাহসী ও দৃঢ় নেতৃত্বের প্রতীক, যিনি বগুড়া জেলা মহিলা দলের গর্ব, অহংকার এবং ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা।

