তোমার মনে আছে আমাদের বাড়ির দক্ষিণ পাশে বর্ষাকাল থৈ থৈ পানিতে ভরে যেত। গোধূলির সোনালী আলোতে সাদা কালো মেঘের ভেলায় ভেসে সন্ধ্যা নামতো। দুই পাশে সাদা কাশফুল বাতাসের ছোঁয়ায় নেচে নেচে ঢেউ তুলতো। তুমি প্রতিদিন বিকেলে বন্ধুদের সাথে বৈকালিক ভ্রমনের ছলে আমাকে দেখতে আসতে। আমি বহু দূর থেকে তোমাকে দেখে নিতাম। ঠিক আবছায়ার মতো। অস্পষ্ট ,ঝাপসা ।
না তোমার চোখে চোখ পড়তো, না তোমার কন্ঠের আওয়াজ ভেসে আসতো। হ্যারিকেনের সলতে জ্বলে উঠলে অভিসারের সমাপ্তি। মনটা তখন ভেঙে চুড়ে দুমড়ে মুচড়ে হাহাকার করে উঠতো। মনে হতো কি যেনো নেই, কি খোয়া গেছে।
এখনো শীত নামে, বসন্ত আসে, বর্ষায় কদম যখন তার ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে বৃষ্টিস্নান করে, তখন কোথাও তুমি থাকো না। কিন্তু শেষ বিকেলের সেই সোনালী নরম আলোর মেলায় তুমি ঠিকই রয়ে যাও।এইতো কিশোরী প্রেম। দূর থেকে চেয়ে দেখা। মাঝেমধ্যে হঠাৎ দৈবৎ কোনো পত্র পাওয়া।
মাত্র কয়েকটি লাইনের একটি চিঠি কতো কিছুই না বলে দিতে পারতো, কতো আবেগ, ভাললাগা, ভালোবাসা জড়িয়ে থাকতো। ।এখনো পড়ন্ত বিকেলের শেষ আলোতে কোথাও না কোথাও তুমি রয়ে গেছো। আকাশের শেষ সীমানায়, সূর্যাস্তের আবিরে আমার অস্পষ্ট দীর্ঘশ্বাসে । আহা আমাদের কৈশোরের প্রেম।
