আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা, উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন এবং জাতীয় সরকার গঠনের দাবিতে শনিবার ময়মনসিংহ জেলা গণঅধিকার পরিষদের আয়োজনে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিলটি ময়মনসিংহ শহরের ব্রিজ মোড় এলাকা থেকে শুরু হয়ে ময়মনসিংহ ব্রিজ পর্যন্ত অগ্রসর হয় এবং সেখানে নেতাকর্মীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে মুহূর্তেই পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং যান চলাচলে সৃষ্টি হয় স্থবিরতা।
এ সময় ময়মনসিংহ জেলা,মহানগর,উপজেলা,ইউনিয়ন ছাত্র,যুব,শ্রমিক এবং গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলো
নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, দেশের গণতন্ত্র আজ মৃত প্রায়। নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস, জনগণের ভোটাধিকার হরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে দেশকে গভীর অন্ধকারে নিক্ষেপ করেছে আওয়ামী লীগ। এ সময় তারা আওয়ামী লীগকে একটি ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক দল হিসেবে চিহ্নিত করে তা নিষিদ্ধের দাবি জানান।
নেতারা আরও বলেন, দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অবিলম্বে একটি সর্বদলীয় জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে, যেখানে জনগণের সত্যিকারের প্রতিনিধি নির্বাচন করে পার্লামেন্ট গঠন করা যাবে। একইসাথে তারা অভিযোগ করেন, উপদেষ্টা পরিষদ বাস্তবতা বিবর্জিত অবস্থায় আছে, যার ফলে দলীয় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠনের দাবিও উঠে আসে কর্মসূচি থেকে।
বক্তারা বলেন, “আমরা রক্ত দিয়ে অর্জিত গণতন্ত্র আবার ফিরিয়ে আনবো। আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করে দেশের মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই এখন সময়ের একমাত্র দাবি।”
বিক্ষোভ শেষে অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও কর্মসূচির প্রভাব শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দীর্ঘ সময় জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হলেও নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি না মানলে সামনে আরও কঠোর কর্মসূচি আসবে।
ময়মনসিংহবাসীর নজরে এটি ছিল একটি সাহসী ও ঐতিহাসিক আয়োজন, যা গণঅধিকার পরিষদের জনপ্রিয়তাকে আরও একধাপ এগিয়ে দিল।

