রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

কি উদ্দেশ্যে কোরআন নাজিল হয়েছে?

ইউ বি টিভি ডেস্ক

কি উদ্দেশ্যে কোরআন নাজিল হয়েছে? বিপরীতে আমরা কি করছি?
আল্লাহ বলেন: ‘কোরআন সমগ্র মানব জাতির জন্য হেদায়াত, সুস্পষ্ট পথ-নির্দেশ এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী ’(সুরা বাকারা:১৮৫) ‘তোমরা এর অনুসরণ কর এবং নিষিদ্ধ সীমা পরিহার করে চল।’(সুরা আনআম:১৫৫) ‘বুদ্ধিমান লোকেরা যেন একে গভীর ভাবে অধ্যয়ন ও চিন্তা-ভাবনা করে।’(সুরা সোয়াদ:২৯)
কিন্তু আমরা যারা আরবী ভাষা জানিনা। কোরআনের অর্থ বুঝিনা। তারা কিভাবে কোরআনের নির্দেশনাকে ’’অনুসরণ’’ করবো? আর কিভাবেই বা কোরআনকে ’’গভীর ভাবে অধ্যয়ন ও চিন্তা-ভাবনা’’ করবো?
অর্থ না বোঝার কারনে আমাদের জীবন পরিচালনার এই ঐশী ম্যানুয়ালটি আমাদের কাছে আজ জটিল ও দুর্বোধ্য! অথচ আল্লাহ বলছেন: ‘নিঃসন্দেহে এ কোরআন এমন পথ প্রদর্শন করে, যা একেবারেই সহজ-সরল।’
(সুরা বনি ইসরাঈল:৯)
মহাগ্রন্থ আল কোরআন বিশুদ্ধ করে তেলাওয়াত করাটা প্রত্যেকের জন্য ফরজ। কিন্তু শুধুমাত্র তেলাওয়াতে কোরআন নাজিলের মূল উদ্দেশ্য বা কোরআন পড়ার হক কতটুকু আদায় হচ্ছে?
আল্লাহ কোরআন নাজিল করেছেন এর শিক্ষা ও নির্দেশনাকে জেনে, বুঁঝে, মেনে চলার জন্য। কোরআনের শিক্ষা ও নির্দেশনাকে যদি না-ই জানি, না-ই বুঝি। তাহলে কোরআন থেকে কি করে হেদায়াত নেয়া সম্ভব? আল্লাহ নিজেই বলছেন: ‘এটা কি করে সম্ভব হতে পারে যে, যে ব্যক্তি তোমার আল্লাহর এই কিতাবকে, যা তিনি তোমার প্রতি নাযিল করেছেন, সত্য বলে জানে; আর যে ব্যক্তি এ মহাসত্য সম্পর্কে অজ্ঞ-অন্ধ; তারা দুজনই সমান হতে পারে? উপদেশ তো বুদ্ধিমান লোকেরাই কবুল করে থাকে।’ (সূরা রা’দ:২০)
আজকে আমরা আল্লাহর ঐশী গ্রন্থ না বোঝার কারণে কোরআনকে সঠিক মর্যাদা দিতে পারছিনা। কোরআনের শিক্ষা ও নির্দেশনা না বুঝার কারনে আল্লাহর হুকুমকে বাদ দিয়ে দূর্ভাগ্যজনকভাবে যতসব ভন্ড পীর, ফকির, নেতা, ধনবান, ক্ষমতাবান, দুনিয়ার বাহাদুরদের হুকুমের অধীনে চলে যাচ্ছি! অথচ এ সম্পর্কে আমাদের ভাবাবেগটা পর্যন্ত যেন আজ মরে গেছে। যেমনটা আল্লাহ বলেছেন: ‘আমি যদি এই কোরআনকে কোন পাহাড়ের উপরও নাযিল করতাম, তাহলেও তুমি দেখতে যে, সে পাহাড় আল্লাহর ভয়ে কেমন বিদীর্ণ হয়ে যাচ্ছে! এই দৃষ্টান্ত গুলো আমি এ জন্য দেই, যেন লোকেরা নিজেদের অবস্থা সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে।’ (সুরা হাশর:২১)
ইসলাম জীবনমুখি ও বুদ্ধিবৃত্তিক একটি পূর্নাঙ্গ বাস্তবিক জীবন বিধান। মূর্খতা ও বৈরাগ্যবাদের সাথে ইসলামের কোনরকমের সম্পর্ক নেই। তাই আমাদেরকে আত্মজিজ্ঞাসা করতে হবে। চিন্তা-গবেষণা ও বিবেক-বুদ্ধিকে কাজে লাগাতে হবে। কারণ যারা জ্ঞান-বিমুখ তারা আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কে কি করে ভাববে? কি করে চিন্তা-গবেষণা করবে? যেমনটা আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন বলছেন: ‘….তাদের অন্তর আছে কিন্তু তারা তার সাহায্যে চিন্তা-ভাবনা করে না; তাদের চোখ আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা দেখে না; তাদের শ্রবনশক্তি আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা শোনে না(সুরা আরাফ:১৭৯)। ‘….তাদের মত হয়ে যেয়ো না, যারা বলে, আমরা শুনলাম; কিন্তু আসলে তারা শোনে না। নিশ্চিত জেনো, আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম পশু, বধির ও বোবা হচ্ছে সেসব মানুষ, যারা নিজেদের বিবেক ও বুদ্ধিকে কাজে লাগায় না।’
(সুরা আনফাল : ২০-২৩)
বিশ্বব্যাপী আজ মুসলমানদের যে বিপর্যয়। তা আল্লাহর কালামকে তার ন্যায্য ও কাঙ্ক্ষিত মর্যাদা না দেবার কারনে।
আমরা যখন থেকে কোরআনকে ছেড়ে দিয়েছি, বিজয়ও তখন থেকেই আমাদেরকে ছেড়ে দিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম), নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন